শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৩

আমি আরো ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কায় ভীত শঙ্কিত


২৬/৪/২০১৩
জাতির ইতিহাসে স্মরনকালের ভয়াবহতম শোকাবহ ঘটনার পরও সরকার যেভাবে কথাবার্তা বলছে এবং যেসব আচার  আচরন করছে তাতে মনে হচ্ছে সরকার কোন কিছু থেকেই কোন শিক্ষা নেবেনা। তারা জুলুম দমন পীড়নের পথ থেকে ফিরে আসবেনা। তারা দ্রুতবেগে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে পিছু হটবেনা  তাতে প্রজা সাধারনের ওপর যতই দু:খ বিপদ নেমে আসুক না কেন। তারা একই হিংস্র উন্মত্ততায় ছুটে চলবে মহা প্রলয়ের দিকে।  তাই আল্লাহ না করুন, আমার আশঙ্কা আমাদের ওপর আরো বড় গজব নেমে আসতে পারে। আমি মনে করি আমরা ইতোমধ্যে গজবে নিপতিত হয়েছি। আর গজব চাইনা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ যেসব কাজ বারবার করতে নিষেধ করেছেন  এবং যেসব কাজের ফলে অতীতে অনেক জনপদ ধ্বংস হয়েছে আজ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহা উৎসবের সাথে সেসব কাজ করা হচ্ছে। তাই আমি গজব বিষয়ে আশঙ্কিত।

আল্লাহ  পবিত্র কোরআনে অতীতে অনেক জাতি/সম্প্রদায়ের ওপর গজব নেমে আসা এবং তাদের ধ্বংসের উদাহরন পেশ করেছেন। কেন তাদের ওপর গজব নেমে এসেছিল তার কারণ উল্লেখ করেছেন। গজব নেমে আসার পূর্বে সেইসব জাতি/সম্প্রদায় যেসব কথাবার্তা বলত, যেসব আচার আচরন করছে তার সাথে আমি অদ্ভুত ধরনের মিল দেখতে পাচ্ছি বর্তমান সরকারের কথাবার্তা এবং আচার আচরনের সাথে। আমার অনুধাবন ভুল হতে পারে এবং যেন ভুল হয়।

যেসব জাতি আল্লাহ অতীতে ধ্বংস হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তারা সকলেই ঘোরতর সব পাপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। সকলেই পাপাচার এবং বাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করেছিল। কোন কোন সম্প্রদায় তাদের নবীকে পর্যন্ত হত্যা করেছে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে। অথচ সেসব নবী তাদের ভাল পথে চলতে বলা ছাড়া তাদের কোন ক্ষতি করেননি। লুত আ. এর জাতি ধ্বংস করা বিষয়ে আল্লাহ বলেছেন তারা এমনসব ঘোরতর পাপকর্মে লিপ্ত হয়েছিল যা অতীতে কোন জাতি কোনদিন করেনি। তারা নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে গমন করত।

কোরআনে বর্নিত ধ্বংসপ্রাপ্ত  প্রত্যেকটি জাতি নবীর সাথে চরম ঠাট্রা পিদ্রুপ করেছে। নবীর সবকিছুকে  তারা যাদু বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেছে নিয়ে আস তোমার প্রভুর প্রতিশ্রুত আযাব যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক। কোন বোধবুদ্ধি ছাড়া অন্ধ বিরোধীতাই ছিল তাদের একমাত্র কাজ।

পুরো সাভার এলাকায় হাজার হাজার পোষ্টার ব্যানার বলছে রানা যুব লীগ নেতা।  ঘটনার পরপরই সমস্ত অনলাইন/সামাজিক মিডিয়ায় রানার পোস্টার.ব্যানারের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে  লেখা রয়েছে রানা সাভার থানা যুব লীগের  আহবায়ক। আর প্রধানমন্ত্রী  বৃহষ্পতিবারও সংসদে দাড়িয়ে বললেন আমার কাছে সাভার থানার যুবলীগের  তালিকা আছে। সেখানে রানার নাম নেই। এর আগে তিনি বলেছেন রানা যুবলীগের কেউ নন। এর আগে বিশ্বজিত হত্যার সময়ও সরকার বলেছিল হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। অথচ বিভিন্ন পত্রিকায় হত্যাকারীদের  বাড়ির ঠিকানাসহ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কে কোন পদে আছে, কে কোন বর্ষে পড়ে তার নারীনক্ষত্র প্রকাশ করে দেখিয়েছে তারা সবাই ছাত্রলীগ করে। ওদিকে সাভার ট্রাজেডি নিয়ে স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন হরতাল বিরোধীরা ভবনের পিলার ধরে টানাটানি করেছে, কলাপসিবল গেট নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করেছে। ভবন ধ্বসের এটা একটা কারণ হতে পারে।

ধর্মদ্রোহী কুলাঙ্গার রাজিব হত্যার পর  প্রধানমন্ত্রী সাথে সাথে ছুটে গেলেন তার বাসায়। কিন্তু এত শত শত মানুষের করুন মৃত্যুর পরও তিনি সাভার যেতে পারলেননা। উল্টো বিরোধী নেত্রী সেখানে যাওয়ায় তিনি সংসদে বলে দিলেন ভিআইপিরা সেখানে গেলে অধিক ভিড়ে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়।

সাভার ট্রাজেডির পর জাতীয় শোক দিবস ঘোষনা করা হল। সেই শোক দিবসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি  আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট শপথ নিলেন। কি হত দুই দিন পরে শপথ নিলে? পত্রিকায় লেখা হয়েছে একেই বলে জাতির সাথে রাষ্ট্রীয় রসিকতা। নতুন রাষ্ট্রপতি টুঙ্গিপাড়া  পর্যন্ত যেতে পারলেন মাজার জিয়ারতে কিন্তু তারও সাভার যাবার সময় হলনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অনুষ্ঠানে বললেন টিভি টকশোতে বড় বড় কথা না বলে সাভার গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে। অথচ আমি মনে করি ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য, এমপিদের সেখানে দলবল নিয়ে ছুটে যাওয়া উচিত ছিল। নিজ হাতে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়ার দরকার ছিল।  দেশের সব বড় বড় প্রকৌশলীদের ডেকে আনার প্রয়োজন ছিল সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য।   যার যা সামর্থ্য আছে তা নিয়ে এগিয়ে আসার দরকার ছিল।   তারা কেউ এ কাজটি করেনি কিন্তু মানুষ নিজ উদ্যোগেই এটি করে ফেলেছে। ওদিকে সেনাবাহিনী একটি দেশরক্ষা জাতীয় বাহিনী হয়েও সেখানে গিয়ে উদ্ধার কাজে সবাইকে বাদ দিয়ে শুধু সরকারী দল, তাদের অঙ্গ সঙ্গঠন, স্থানীয় এমপির অনুসারীদের  প্রশংসা করে দলবাজি বক্তব্য দিয়ে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনীর মর্যাদা নষ্ট করেছে।

সরকারের উচিত ছিল যেকোন মূল্যে পাপাচারী রানা এবং কারখানা মালিকদের গ্রেফতার করা।  কিন্তু করনীয় কোন কিছুই না করে  সরকার এ নিয়ে নোংরা রাজনীতি শুরু করেছে। অন্ধভাবে পথ হাটছে  আর একের পর এক হোচট খাচ্ছে এখানে সেখানে।

অন্ধভাবে বলছে দোষীরা তাদের দলের কেউ নয়। হরতালকারীদের কারনে ভবন ধ্বসে পড়তে পারে।
এসবই অতীতে ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির কথাবার্তার সাথে মিল পাওয়া যায়। গত চার বছর ধরে যেমন সব কিছুর জন্য যুদ্ধাপরাধ বিচার বানচাল করার কথা বলা হয়েছে এখনো তেমনি অন্ধভাবে তাদের কথা তারা বলে চলেছে একসুরে।

শাহবাগ মঞ্চ এর প্রতিক্রিয়ায় হেফাজতের উত্থান, ফটিক ছড়ির ঘটনা কোন কিছু থেকেই তারা কোন শিক্ষা নেবে বলে মনে হয়না।
ভয়াবহ এ শোকের মাঝেও তারা বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর দমন পীড়ন নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল  হাশেমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অসুস্থ অবস্থায় তাকে পুলিশ বাসা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। বৃহষ্পতিবার রাত দেড়টায় গ্রেফতার করা হয়েছে চট্টগ্রাম দণি জেলা জামায়াতের আমির জাফর সাদেককে। একই দিন বরিশাল মহানগর আমির অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পাশাপাশি চলছে গুম, হামলা এবং হত্যার ঘটনা। কুষ্টিয়া জগতি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম নুরুসহ দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে গতকাল শুক্রবার।  পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রামের জামায়াত শিবিরের মিছিলে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এতে নিহত হয়েছে এক শিশু। এভাবে সাভার ভবন ধ্বসের দিন চাদা না দেয়ায় ছাত্রলীগ কর্তৃক একটি পরিহন সংস্থার বিপুল সংখ্যাক গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

পাকিস্তানী  জালিম সেনা শাসক তাদের দেশেরই মানুষের ওপর নির্মম গনহত্যা চালিয়েছিল। তাদের নিজেদের মা বোনদের ইজ্জত হরন করেছিল। নিজেদের ঘরে নিজেরা লুটপাট, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। নিজেদের ঘরে তারা নিজেরা আগুন দিয়েছিল। একই দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাদেরকে মানুষ মনে করতে পারেনি। পর এবং শত্রু মনে করেছে। ফলে তাদের ওপর আল্লাহর গজব এবং মজলুমের অভিশাপ নেমে এল। সেই অভিশাপ তারা আজো কাটিয়ে উঠতে পারেনি।  আজো তারা ছারখার হয়ে চলছে। অতীত পাপে জ্বলে পুড়ে মরছে।

আজো আমাদের সরকার সেই পাকিস্তানীদের মত  তার প্রজাদের একটি অংশকে দেশের শত্রু মনে করছে। তাদের এদেশে থাকার অধিকার নেই বলে মনে করছে।  তাদের কুকুর বিড়াল মনে করা হচ্ছে। তাদের হত্যা করা কোন অপরাধ নয়। যে কেউ তাদের গুলি করে মারতে পারে। কোন সমস্যা নেই। কোন বিচার নেই, প্রতিকার নেই। তাদের সমুলে বিনাশ, ধ্বংস এবং উৎখাতের জন্য, হত্যার জন্য রাষ্ট্রের পুলিশ, র্যাাব, বিজিবি লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। । দলীয় কর্মীবাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। দেশ রক্ষার জন্য কেনা অস্ত্র দিয়ে আজ নির্বিচারে তারা প্রজাদের  একটি অংশকে  গুলি করে হত্যা করছে। তাদের কোন অধিকার নেই বলে মনে করছে। সরকার আজ তার প্রজাদের একটি অংশের বিরুদ্ধে আরেকটি অংশকে লেলিয়ে দিয়েছে, উস্কে দিয়েছে ধ্বংস করার জন্য। শাহবাগে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দিনের পর দিন, হিংসা বিদ্বেষ, সংঘাত, হানাহানি, ফিতনা ছড়ানো হয়েছে। সরকার সমর্থক তথাকথিত গনমাধ্যম অতি উৎসাহী হয়ে অংশ নিয়েছে সরকারের এই ধ্বংস মিশনে।  ফলে ঝরে গেছে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণ।

 আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বারবার হুশিয়ার করেছেন সমাজে দাঙ্গা, ফাসাদ, হিংসা,  বিদ্বেষ, হানাহানি না ছাড়ানোর জন্য। এজন্য কোরআনে কঠোর শাস্তির ঘোসনা করা হয়েছে।  শিরক ছাড়া কোরআনে যেটিকে সবচেয়ে  পাপের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সেটি হল  অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা। এছাড়া  মানুষের হক নষ্ট করা,  অবৈধভাবে পরসম্পদ দখল করা,  অনাচার, জিনা ব্যাভিবার, অশ্লিলতা ছড়ানোর বিষয়েও বারবার হুশিয়ার করেছেন আল্লাহ।  মানুষের অধিকার/মর্যাদা রক্ষাকে আল্লাহ কোরআনে অতি উচ্চে স্থান দিয়েছেন। সমাজে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে বারবার হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন। তিনি বলেছেন যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মানুষ হত্যা করল সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যার হাত থেকে রক্ষা করল সে যেন গোটা মানবজাতিকে রক্ষা করল। অন্যত্র আল্লাহ বলেছন যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোন মুসলমানকে হত্যা করল সে  হবে জাহান্নামী। সেখানেই সে চিরকাল থাকবে। সেখান থেকে কোন দিন বের হতে পারবেনা। আল্লাহ তার প্রতি ক্রদ্ধ হয়েছেন। (আয়াতের অর্থ স্মৃতি থেকে লেখা। হুবহু দেখে লেখা হয়নি।)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ যেসব কাজ বারবার করতে নিষেধ করেছেন  এবং যেসব কাজের ফলে অতীতে অনেক জনপদ ধ্বংস হয়েছে আজ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহা উৎসবের সাথে সেসব কাজ করা হচ্ছে। তাই আমি গজব বিষয়ে আশঙ্কিত।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন