সোমবার, ২ জুন, ২০১৪

বিশ্বকাপ কবে জানিনা


বিশ্বকাপ ফুটবল কবে তা জানিনা। সত্যি বলছি জানিনা। কারণ খেলা মেলার খবরতো দূরের কথা হেডলাইনও পড়িনা এবং খবরও শুনিনা। তবে ব্রাজিলে হবে তা জেনেছি। তাও হয়ত জানতমানা। একটি কারনে জেনেছি। খেলার খবর জানতে গিয়ে নয়, জেনেছি খেলার বিরুদ্ধে ব্রাজিলে প্রতিবাদ সংক্রান্ত একটি খবরের হেডলাইনে চোখ আটকে যাওয়ায়। ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফুটবলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে সে দেশেরই কিছু মানুষ। হায় হায় কয়কি। ফুটবল পাগল দেশে এ কি কথা? আমি বিস্মিত হয়ে খবরটা পড়ার চেষ্টা করলাম। তাতে জানতে পারলমা ব্রাজিলে এই বিশ্বকাপের আয়োজনে ফিফার সহায়তায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে দেশটি। প্রতিবাদকারিরা দাবি জানাচ্ছে ব্রাজিলসহ বিশ্বের অভুক্ত শিশু ও মানুষের খাবারের পেছনে ব্যয় করা হোক এ টাকা। মানুষকে অভুক্ত রেখে তারা খেলার পেছনে এভাবে অর্থ খরচের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করছেন তারা।
ছোটবেলায় বৃষ্টিতে ভিজে হাটু সমান কাদা পানির মধ্যেও ফুটবল খেলেছি, চোখের ভেতর কাদা ময়লার কারনে লাল চোখ নিয়ে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারিনি। এরপর বড় হয়ে ক্রিকেটের প্রতি ভক্ত হলাম। তখন এত টিভি ছিলনা এবং সব টিভিতে সব চ্যানেলও ছিলনা। তাই ভারত পাকিস্তান খেলার জন্য যেখানে যেতে হয় সেখানে যেতাম। পত্রিকায় কুইজের জবাব দিয়ে পুরস্কারও পেয়েছি। কিন্তু এখন আর এসব খেলা মেলা তেমন তাকিয়েও দেখিনা। অফিসে কাজের সময় টিভি খোলা থাকে। তাই তেমন উত্তেজনাপূর্ণ খেলা হলে মাঝে মাঝে গিয়ে সবার সাথে টিভির সামনে দাড়াই। এর বেশি নয়। খেলা দেখা এবং এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা বাদ দেয়ার কারণ খেলা মানে এখন জুয়া, যৌনতার আসর, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং রমরমা বানিজ্য । বিশ্বকাপ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সারা বিশ্বের পতিতারা ভিড় জমায় সেদেশে। এসব এখন বিরাট বিরাট খবর । খেলা নয় চিয়ার্স গার্লসই বিনোদন। । আছে আরো অনেক কিছু যা খবর হয়না। খেলা এখন আর কোন খেলা নেই। সে এখন অন্য কিছু। তাই বাদ দিয়েছি । এসব বিষয় আমার চেয়ে অনেকে হয়ত আরো ভালো জানেন এবং ভালভাবে প্রকাশও করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৪

বিএনপি জামায়াত সরকারকে স্বীকৃতি দিল কি?

বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি গত ২০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করেছে। আজ জামায়াত বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ ও মিছিল করতে চাচ্ছে। প্রশানের অনুমতি নিয়েই বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে প্রথম এ গণতান্ত্রিক অধিকারটি প্রাকটিস করল। জামায়াতের আজকের সমাবেশ ও মিছিলকে সফল করার জন্য তারাও প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা কামনা করেছে। যে সরকারকে বিএনপি জামায়াত অবৈধ হিসেবে আখ্যায়িত করছে সেই সরকারের কৃপায় তাদের অধীনে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রাকটিস করতে যাওয়া মানে তাদেরকে পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেয়া এবং স্বীকৃতি দেয়া। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে।   আপনাদের কি মত?

যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার নতুন মেয়াদে দেশ পরিচালনার ভার গ্রহণ করেছে তাতে এ সরকার শুরুতে এখন বেশ কিছুটা উদারতার পরিচয় দিতে পারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশল হিসেবে। অন্তত বিএনপিকে কিছুটা দম ফেলার সুযোগ হয়ত দেবে। তাতে সরকারের কিছু আসবে যাবেনা। কারণ কাজের কাজ যা তাতো হাসিল হয়ে গেছে। মসনদ তাদের দখলে। তাই এখন ছোটখাট বিষয় নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা সরকারের কাম্য হতে পারেনা। তাছাড়া বিরোধীদের দমন এবং ধ্বংস যা করার তাতো গত ৫ বছরে  প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন যেটুকু বাকি আছে তা গদিটা একটু পাকাপোক্ত এবং শক্ত করার পরে সম্পন্ন করলেও তেমন ক্ষতি হবেনা সরকারের জন্য। কাজেই আরো ৫ বছর ক্ষমতাভোগের যে বিরল সুযোগ এ সরকার পেয়েছে সেই বিরাট পাওনার বিনিময়ে সামান্য উদারতার পরিচয় দেয়া তাদের জন্য অতিশয় তুচ্ছ বিষয় বৈ কিছু নয়।  সবাই দেখবে বেশ ভালইতো চলছে । বিরোধীদেরও অনেক অধিকার দিয়েছে এরা। বিভ্রান্তরা  সামান্য এই উচ্ছিষ্টে মোহগ্রস্ত হয়ে নিজেদের কতটা সপে দেয়া সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৪

নিন্দা আর উদ্বেগই এখন একমাত্র সান্তনা

টেলিভিশনে দেখলাম সিরিয়ায় সর্বস্ব হারানো এক যুবক আর্তনাদ করে বলছে হোয়ার ইজ মুসলিম, সেভ আজ। কিন্তু কেউ তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসছেনা বরং হত্যা এবং ধ্বংসে মদদ দিচ্ছে সবাই। বাশার কর্তৃক ১১ হাজার  বন্দী হত্যায় নিন্দা এবং উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে চলমান সংঘাতে বাশার কর্তৃক  দুই লক্ষাধিক নাগরিক হত্যা, শহর, নগর, লোকালয়, জনপদ, স্থাপনা সভ্যতা ধ্বংসেও বেশ কয়েকবার একইভাবে তারা নিন্দা আর উদ্বেগ জানিয়েছে। কিন্তু এ হত্যা এবং ধ্বংস বন্ধের মুরোদ কারোর হয়নি। মিশরে জেনারেল সিসি কর্তৃক অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল এবং প্রতিবাদী মানুষ হত্যায়ও কেউ কেউ মৃদু নিন্দা আর উদ্বেগ জানিয়েছে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনা এবং হত্যায় মৃদু থেকে তীব্র নিন্দাবাদ প্রকাশ করেছে অনেকে। এমনিভাবে পৃথিবীর যে প্রান্তেই নির্বিচারে হত্যা, ধ্বংস পরিচালিত হচ্ছে সেখানেই অসহায় মজলুমের একমাত্র প্রাপ্তি শুধু নিন্দা আর উদ্বেগের সান্তনা। আর এভাবেই একের পর এক হত্যাকারির আবির্ভাব ঘটছে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতায়। ক্ষমতার জন্য তারা হত্যা এবং ধ্বংসের উন্নত্ততায় মেতে উঠেছে। তারা ষ্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছে অমুক যদি লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করে টিকে থাকতে পারে এবং কেউ যদি তার একটি কেশও স্পর্ষ করতে না পারে তাহলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মানুষ মারতে আমার সমস্যা কোথায়? তাছাড়া নতুন বৈশ্বিক রাজনৈতিক মেরুকরনেরও সুযোগ নিচ্ছে এসব দুরাচার পাপাচারি শাসক সম্প্রদায়।  পৃথিবী মার্কিন এবং  রাশিয়া কেন্দ্রিক দুই মেরুতে বিভক্ত থাকার সুযোগ যেমন একসময় চতুর শাসকরা গ্রহণ করেছে তেমনি এখন আবার সেইরকম একটি সুযোগ  স্পষ্টত ফিরে এসেছে ।  বেশ কিছুদিন মার্কিন নেতৃত্বে থাকা এককেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা এখন আবার বহুকেন্দ্রিকতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রথমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উত্থান তারপর পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া আবার  নিজের র্পব গৌরব উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এর পাশাপাশি চীন ভারতসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। ফলে আবার শুরু হয়েছে সাম্রাজ্যবাদী লুটেরাদের অঞ্চল  দখল আর ভাগাভাগির লড়াই। এর সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের এখনকার দুরাচারী ক্ষমতালিপ্সু লুটেরা শাসক শ্রেণি। তাই দিকে দিকে অসহায় মজলুমের জন্য এখন নিন্দা আর  উদ্বেগের সান্তনা ছাড়া কিছু নেই। রাশিয়ার সাথে যে কারনে বাগড়ায় জড়িয়ে সিরিয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন উদ্যোগ থেমে গেছে একই কারনে বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিনীরা ভারতের সাথে বড় আকারে কোন ঠান্ডা লড়াইয়ে যেতে চায়নি বলেই প্রতীয়মান। আর তাদের সেই সুদিনও আর নেই। এটা অনেকে বুঝতে পারলেও এখানে যারা তাদের কৃপা পেতে দীর্ঘদিন ধরে পদলেহন করেছে তারা বুঝতে পারেনি বলেই স্পষ্টত প্রতীয়মান।

সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৪

ড. শঙ্কর দয়াল শর্মার একটি কবিতা পড়ে আমি বিস্মিত হয়েছি

ভারতের নবম রাষ্ট্রপতি  ড. শঙ্কর দয়াল শর্মার একটি কবিতা পড়ে আমি বিস্মিত হয়েছি। আপনারাও বিস্মিত হবেন আশা করছি

আল-কোরআন

যাহা ছিল প্রাণ সঞ্চালনের গ্রন্থ
হয়ে গেল প্রার্থনার পুস্তক

যা ছিল অধ্যয়নের জন্য
হয়ে গেল আবৃত্তির জন্য

জীবন্তদের বিধান ছিল
হয়ে গেল মৃতদের ছাড়পত্র

জ্ঞান বিজ্ঞানের শাখা ছিল
পড়ে গেল মুর্খদের হাতে

সৃষ্টি বশ করার আহবান ছিল
থেমে গেল মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে

প্রাণহীনকে চেয়েছিল প্রাণবন্ত করতে
লেগে গেল বিদেহীদের পরিত্রানকল্পে

জাতীয় প্রেসকাব কবিতাপত্র
মার্চ ২০১২, সম্পাদনা পরিষদ



Amal ki kitab thi
Dua ki kitab bana dia
Samajhne ki kitab thi
Parhne ki kitab bana dia
Zindaon ka dastoor tha
Murdon ka manshoor bana dia
Jo ilm ki kitab thi
Usey la ilmon ke hath thama dia
Taskheer-e-kayenat ka dars dene aayi thi
Sirf madarson ka nisaab bana dia
Murda qomon ko zinda karne aayi thi
Murdon ko bakhshwane per laga dia
Aye Musalmano ye hamne kia kiya?
Zara socheay!


বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৪

সাঈদী সম্পর্কে আহমদ ছফা

সাঈদী সম্পর্কে দার্শনিক আহমদ ছফার মূল্যায়ন পড়ে আমি যারপরনাই পুলকিত হলাম। আমার সহকর্মী আলফাজ আনাম ভাইর রুমে ঢোকামাত্র আমাকে তিনি আহমদ ছফার লেখাটি ধরিয়ে দিয়ে বললেন পড়েন। পড়ে আমি হোহো করে হেসে উঠলাম। তাকে বললাম ফেসবুকে ছাড়েন। সে ছাড়ল। আমি শেয়ার করলাম। পড়ে কপি করে আমিও একটা স্টাটাস মারলাম। নিম্নে সাঈদী সম্পর্কে আহমদ ছফার মূল্যায়নটি পড়তে পারেন। পুলকিত হবেন আশা করি।

...............আমার বিচারে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোত্তম আশ্চর্য বস্তু হল হযরত মাওলানা আলহাজ্ব দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। তাঁকে কি কারণে এ দুর্লভ সম্মানে ভূষিত করতে হল সেটা একটু ব্যাখ্যা করার দাবি রাখে। গত ফাল্গুনে আমি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখি আমার ভাতৃবধূ কে-টু সিগারেট পান করছেন এবং ক্যাসেটে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সাহেবের মিলাদ শুনছেন। আমার বাবা-মা যদ্দিন বেঁচেছিলেন ওই মহিলাকে জোর করে একবারও নামাযের পাটিতে দাঁড় করাতে পারেননি। আমার ভাইও অনেক চেষ্টা করে ক্ষান্ত দিয়েছিলেন। আমি দেখলাম হযরত সাঈদী এই মহিলার অন্তরে ধর্মপিপাসা জাগ্রত করতে সক্ষম হয়েছেন। তারপরেও যদি তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতি দিতে আমি রাজি না হই, নিজের উৎকৃষ্ট অংশের প্রতি আমি অবিচার করব। ভাবীর এই রূপান্তর দেখে আমি নিজেও হযরতের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছি। তার কারণ আছে। অন্য মাওলানার মিলাদ আমি শুনেছি। তাঁরা ধর্মকথা পুণ্যকথা বলেন। কিন্তু সেগুলো বোরিং লাগে। মাওলানা সাঈদীর ক্যাসেট যখন শুনলাম, বুঝতে পারলাম মিলাদ কাকে বলে। এখনে ধর্ম অর্থ মোক্ষ কাম সব মেলে। হযরত সাঈদী যদি গান করতেন, মাইকেল জ্যাকসনের কাছাকাছি পৌঁছুতেন। অভিনয় করলে ছবি বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে যেতেন। নাচ করলে বুলবুল চৌধুরীর রেকর্ড ম্লান হয়ে যেত। নাচ গান অভিনয় এবং তার ওপর ধর্মকথা এই একের ভেতর চার তিনি সমন্বয় করেছেন। তাঁকে কি করে আমি সামান্য মানুষ বলব। সুতরাং বরণীয় স্মরণীয়দের তালিকায় আমি সাঈদী সাহেবকে একটা জায়গা দিয়ে বসে আছি
(ত্রি বঙ্গাশ্চর্য পরিচয় / আহমদ ছফা)নিকট ও দূরের প্রসঙ্গ, ১৯৯৫।

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৪

আন্তর্জাতিক রাজনীতির আও তারা বোঝেনা

যারা বলছে বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়বে, অমুক তমুক ; আমার মনে হয় তারা বেকুফ, নাদান। আমার বিশ্বাস আন্তর্জাতিক রাজনীতির আও তারা বোঝেনা এবং তাদের আসলে নতুন করে রাজনৈতিক পাঠ নেয়া উচিত। আমারতো বিশ্বাস আন্তর্জাতিক লুটেরা চক্র এখন মুখিয়ে আছে এ সরকারকে কত বেশি  ব্ল্যাকমেইল করে কত বেশি স্বার্থ আদায় করতে পারে সেজন্য। তাদের জন্য এর চেয়ে মওকা ভবে আর নেই। হা হা হা.....। আন্দোলন করেছে বিএনপি জামায়াত আর এখন তার ফসল ঘরে তুলবে আন্তর্জাতিক লুটেরা চক্র। বাংলাদেশে কাকে  মসনদে বসালে কার কত বেশি লাভ হবে, কে কাদেরকে কত বেশি ছাড় দিতে পারবে, কে কত বেশি দেশকে বিলিয়ে দিতে পারবে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অন্দরমহলে নানা হিসাব নিকাশ চালাচালি চলছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে স্বার্থ আদায় এবং লুটপাট করে নেয়ার এমন মহান সুযোগ যে তাদের কাছে এভাবে ধরা দেবে তা মনে হয় তারা স্বপ্নেও ভাবেনি।
আমার আরো বিশ্বাস এখনো তারা ঘন ঘন বেগম খালেদা জিয়ার বাসায় যাচ্ছেন তাদের স্বার্থ আদায়ের রেট বাড়ানোর জন্য। এবং  এ সরকারের বিরুদ্ধে  মিউ মিউ করে টুকটাক যা কিছুই তারা বলবে তা সবই ভাগের রেট বাড়ানোর জন্য।

শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৪

আদর্শের সংগ্রামে পরাজিত সৈনিকের শেষ পরিণতি দালালি

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যতদূর মনে পড়ে জগন্নাথ হলের দেয়ালে পড়েছিলাম এ লিখনটি। দেয়াল লিখনটি লিখেছিল বাম কোন একটি ছাত্রসংগঠন বা দল । সংগঠনটির নাম এতদিন পর মনে নেই। বুঝতে অসুবিধা হয়নি বামদেরই একটি শ্রেণিকে লক্ষ্য করে লেখা হয়েছিল তীব্র কষাঘাতপূর্ণ এ কথাটি। দেয়াললিখনকারীদের দৃষ্টিতে আদর্শের সংগ্রামে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি শ্রেণি  ক্ষমতা আর  হালুয়া রুটির জন্য অপরের দালালি আর লেজুড়বৃত্তি করছে ।  দেয়াল লিখনটি আমার বেশ মনে ধরেছিল ।  এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময় মনে পড়েছে এ দেয়াল লিখনের কথা। ১৫/১৬/ বছর হয়ে গেলেও আজো কথাটি ভুলতে পারিনি। গত কয়েক বছর কথাটি  বারবার  মনে পড়ছে। বামদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মন্তব্যের পর আবার মনে পড়ল কথাটি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন   পাকা পাকা বামগুলোকে তিনি নিয়ে নিয়েছেন। পচাগুলা পড়ে আছে। এরপর ফেবুতে একজনের স্টাটাস দেখলাম- বামরা পাকলে হয় আওয়ামী লীগ আর কাচা থাকলে হয় পচা।
বাম আন্দোলন এক সময় এদেশের মেধাবী তরুন যবুকদের তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। তাদের কাছে এটা ছিল একটি আদর্শিক সংগ্রাম। এটা তাদের কাছে এতটাই আদর্শিক ছিল যে জোশের চোটে কেউ কেউ সার্টিফিকেটও নাকি ছিড়ে ফেলেছিল বলে শুনেছি। কিসের ছাতার রুটি রুজি আর গোলামীর চাকরি। গোল্লায় যাক।  লুটেরা রাজনীতি আর শোষন বঞ্চনা থেকে মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হবে এই ছিল তাদের ব্রত। যেসব নেতার নীতিকথায় উৎসাহিত হয়ে তরুনরা জীবন বাজি রেখেছিল পরে তারা দেখতে থাকল তাদের গুরুদের অনেকের  পদস্খলন, রুটি রুজি এর ক্ষমতার জন্য  নোংরামি আর দালালি। মোহ ভাঙ্গতে শুরু করে অনেকের। প্রেসকাবে একটি এসাইনমেন্টে গিয়েছিলাম। এক বাম নেতার মুখেই অন্য  বামদের লক্ষ্য করে এমন একটি গালি দিতে শুনলাম যা লেখার যোগ্য নয়। অনেকে আহত হতে পারেন। বামদের মধ্যে তীব্র দলাদলি, গ্রপিংয়ে যারপর নেই অতিষ্ট ছিলেন তিনি। গত ৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারে ডজনখানিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সবাই এক সময় কোন না কোন বামদলের সাথে জড়িত ছিলেন।  তাদের নিয়ে টিভিতে বিশেষ করে পীর হাবিবুর রহমান সাহেবের তীব্র সমালোচনা শুনেছি অসংখ্যবার। অনেকের মুখে বলতে শুনেছি বঙ্গবন্ধুকে ডোবানোর জন্য দায়ী ছিল বামরা। এখনো আওয়ামী লীগকে ডোবাচ্ছে এরা। বামদের মুখে সুন্দর সুন্দর নীতি আদর্শমূলক কথা, গত ৫ বছরে তাদের কর্মকান্ড এবং সর্বশেষ তামাশার নির্বাচনে তাদের ভূমিকা দেখে আমার কেবলই মনে পড়ছে জগন্নাথ হলের দেয়াল লিখনের কথা।

বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৪

আমাদের এলাকার এমপির নাম আমি এখনো জানিনা।

আমাদের  এলাকার (স্বরূপকাঠী, পিরোজপুর)  এমপির নাম আমি এখনো জানিনা। একটু আগে বিভিন্ন অনলাইনে দেশের খবরাদি দেখার সময় একটা খবর দেখলাম এমপিদের শপথ গ্রহণ বিষয়ক। আরো দেখলাম সালমার জামাইও এমপি হইছে। সালমার জামাইর নাম কি জানার জন্য খবরটা পড়লাম।  তখন এক ফাঁকে হঠাৎ করে মাথার মধ্যে কিক করল আমাদের এলাকার এমপি কেডা? হায় হায় আমিতো জানিনা। জানার কোন আগ্রহও নাই । ধুর কি হবে না জানলে? । উল্লেখ্য ঢাকায় আমি যে এলাকায় বাস করি সে এলাকার এমপি কেডা তাও জানিনা এখনো। জানার আগ্রহও নেই। আমি কি পিছিয়ে পড়ছি? কিছুই জানিনা দেখছি। হায় হায় আমার একি দশা হইল?

সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৪

দুর্বল সরকার সবসময় সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা বিশ্ব মোড়লদের কাছে প্রিয়

অবৈধ, অনৈতিক, বিতর্কিত এবং দুর্বল সরকার সবসময় সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা বিশ্ব মোড়লদের কাছে প্রিয় । এ ধরনের সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করতে তাদের জন্য সুবিধা। দুর্বল সরকারকে  নিরব সমর্থন, বৈধতা দান এবং টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে তারা মোটা অংকের স্বার্থ আদায় করে নিতে পারে। এ ধরনের সরকার বিশ্ব মোড়লদের জন্য সবসময়ই পোয়াবারো। লুটেরা দুর্বল সরকারও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব কিছু উজাড় করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। এ দুয়ের কম্বিনেশন হলে অত্যাচারি লুটেরাদের জন্য চিন্তার কিছু নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। 
অনেকে আশা করে ছিলেন আমেরিকা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিএনপির জন্য কিছু করবে। এখনো অনেকে সে আশা করছে। আমি নির্বাচনের আগে একটি স্টাটাসে বলেছিলাম খুব শীঘ্রই হয়ত এমনদিন আসবে যখন দেখব আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তামাশার এ নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকারকে প্রকাশ্য বা নিরব সমর্থন দেবে। বিনিময়ে আদায় করে নেবে দেশবিরোধী বিরাট স্বার্থ। বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে তার সবই তাদের স্বার্থ আদায় এবং বৈশ্বিক ভাগবাটোয়ারা এবং লুটের একটি ক্ষেত্রস্থল হিসেবে সৃষ্টিতে বিরাট অনুকুল পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা আগেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে মাছ শিকার করেছে এবং আগামীতেও করার অপেক্ষায় আছে।  এখন দেখার বিষয় ভাগবাটোয়ারা ও দেনদরবার কোথায় গিয়ে ঠেকে এবং এ অবস্থাকে কোথায় নিয়ে দাড় করায়।

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

সত্যি বলছি এত ব্যাপক বিনোদন অতীতের কোন নির্বাচনে আর পাইনি

অতীতে জাতীয় নির্বাচন মানেই ছিল দিনের শুরুতে উৎসব আমেজ, দিনভর আনন্দ উৎসব আর সন্ধ্যার পর যখন ফলাফল আসতে শুরু করে তখন টিভির সামনে বসে টান টান উত্তেজনা, টেনশনে আক্রান্ত হওয়া। এরপর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষনার পর ফলাফল পক্ষে গেলে চূড়ান্ত আনন্দ আর বিপক্ষে গেলে তীব্র মনোকষ্ট।
যখন থেকে রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছে, যখন থেকে ভোট দেয়ার সুযোগ হয়েছে তখন থেকেই এ পর্যন্ত হয়ে আসা প্রতিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এরকমই ছিল অনুভূতি। তবে আজকের নির্বাচনেও কম আনন্দ পাইনি। ব্যাপক আনন্দ পাইছি। সারাদিনই শুধু আনন্দ আর আনন্দ। আগের ভোটে তবু সন্ধ্যা থেকে ভোট গননার পর থেকে একটা টেনশন শুরু হত। কিন্তু আজকের আনন্দে কোন রিস্ক নাই। শুধু বিনোদন। খাঁটি বিনোদন। কে জিতল কে হারল কোন টেনশন নাই।
সকালেই ঘুম থেকে উঠে টিভির সামনে বসেছি  তামাশা দেখার জন্য। পরিবারের লোকজন নিয়ে টিভিতে অনেক তামাশা দেখলাম। এর মাঝে এক কলিগ ফোন দিলেন। তাকে বল্লাম অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি। অনেকক্ষন তামাশা দেখেছি। একা একা এতবড় তামাশা দেখে আর যুৎ পাচ্ছিনা। অফিসে গিয়ে সবার সাথে মিলে টিভি, নেটের সামনে বসে সারা দেশের সব তামাশা আয়েশ করে দেখতে চাই। দ্রুত চলে আসলাম অফিসে। ফেবু, ব্লগ, অনলাইন নিউজ এবং টিভির পর্দা সব একসাথে সামনে নিয়ে তামাশা দেখতে আছি। খালি বিনুদন আর বিনুদন। ফেবুতে বিচিত্র সব  কমেন্ট, ছবি, পোস্টার আসতে আছে। এসব দেখে  কখনো কখনো  হাহাহা করে হেসে উঠি। সত্যি বলছি অতীতের কোন নির্বাচনে এত ব্যাপুক বিনোদন আর পাইনি।