শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৪

আদর্শের সংগ্রামে পরাজিত সৈনিকের শেষ পরিণতি দালালি

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যতদূর মনে পড়ে জগন্নাথ হলের দেয়ালে পড়েছিলাম এ লিখনটি। দেয়াল লিখনটি লিখেছিল বাম কোন একটি ছাত্রসংগঠন বা দল । সংগঠনটির নাম এতদিন পর মনে নেই। বুঝতে অসুবিধা হয়নি বামদেরই একটি শ্রেণিকে লক্ষ্য করে লেখা হয়েছিল তীব্র কষাঘাতপূর্ণ এ কথাটি। দেয়াললিখনকারীদের দৃষ্টিতে আদর্শের সংগ্রামে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত একটি শ্রেণি  ক্ষমতা আর  হালুয়া রুটির জন্য অপরের দালালি আর লেজুড়বৃত্তি করছে ।  দেয়াল লিখনটি আমার বেশ মনে ধরেছিল ।  এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময় মনে পড়েছে এ দেয়াল লিখনের কথা। ১৫/১৬/ বছর হয়ে গেলেও আজো কথাটি ভুলতে পারিনি। গত কয়েক বছর কথাটি  বারবার  মনে পড়ছে। বামদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মন্তব্যের পর আবার মনে পড়ল কথাটি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন   পাকা পাকা বামগুলোকে তিনি নিয়ে নিয়েছেন। পচাগুলা পড়ে আছে। এরপর ফেবুতে একজনের স্টাটাস দেখলাম- বামরা পাকলে হয় আওয়ামী লীগ আর কাচা থাকলে হয় পচা।
বাম আন্দোলন এক সময় এদেশের মেধাবী তরুন যবুকদের তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। তাদের কাছে এটা ছিল একটি আদর্শিক সংগ্রাম। এটা তাদের কাছে এতটাই আদর্শিক ছিল যে জোশের চোটে কেউ কেউ সার্টিফিকেটও নাকি ছিড়ে ফেলেছিল বলে শুনেছি। কিসের ছাতার রুটি রুজি আর গোলামীর চাকরি। গোল্লায় যাক।  লুটেরা রাজনীতি আর শোষন বঞ্চনা থেকে মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হবে এই ছিল তাদের ব্রত। যেসব নেতার নীতিকথায় উৎসাহিত হয়ে তরুনরা জীবন বাজি রেখেছিল পরে তারা দেখতে থাকল তাদের গুরুদের অনেকের  পদস্খলন, রুটি রুজি এর ক্ষমতার জন্য  নোংরামি আর দালালি। মোহ ভাঙ্গতে শুরু করে অনেকের। প্রেসকাবে একটি এসাইনমেন্টে গিয়েছিলাম। এক বাম নেতার মুখেই অন্য  বামদের লক্ষ্য করে এমন একটি গালি দিতে শুনলাম যা লেখার যোগ্য নয়। অনেকে আহত হতে পারেন। বামদের মধ্যে তীব্র দলাদলি, গ্রপিংয়ে যারপর নেই অতিষ্ট ছিলেন তিনি। গত ৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারে ডজনখানিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সবাই এক সময় কোন না কোন বামদলের সাথে জড়িত ছিলেন।  তাদের নিয়ে টিভিতে বিশেষ করে পীর হাবিবুর রহমান সাহেবের তীব্র সমালোচনা শুনেছি অসংখ্যবার। অনেকের মুখে বলতে শুনেছি বঙ্গবন্ধুকে ডোবানোর জন্য দায়ী ছিল বামরা। এখনো আওয়ামী লীগকে ডোবাচ্ছে এরা। বামদের মুখে সুন্দর সুন্দর নীতি আদর্শমূলক কথা, গত ৫ বছরে তাদের কর্মকান্ড এবং সর্বশেষ তামাশার নির্বাচনে তাদের ভূমিকা দেখে আমার কেবলই মনে পড়ছে জগন্নাথ হলের দেয়াল লিখনের কথা।

বুধবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৪

আমাদের এলাকার এমপির নাম আমি এখনো জানিনা।

আমাদের  এলাকার (স্বরূপকাঠী, পিরোজপুর)  এমপির নাম আমি এখনো জানিনা। একটু আগে বিভিন্ন অনলাইনে দেশের খবরাদি দেখার সময় একটা খবর দেখলাম এমপিদের শপথ গ্রহণ বিষয়ক। আরো দেখলাম সালমার জামাইও এমপি হইছে। সালমার জামাইর নাম কি জানার জন্য খবরটা পড়লাম।  তখন এক ফাঁকে হঠাৎ করে মাথার মধ্যে কিক করল আমাদের এলাকার এমপি কেডা? হায় হায় আমিতো জানিনা। জানার কোন আগ্রহও নাই । ধুর কি হবে না জানলে? । উল্লেখ্য ঢাকায় আমি যে এলাকায় বাস করি সে এলাকার এমপি কেডা তাও জানিনা এখনো। জানার আগ্রহও নেই। আমি কি পিছিয়ে পড়ছি? কিছুই জানিনা দেখছি। হায় হায় আমার একি দশা হইল?

সোমবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৪

দুর্বল সরকার সবসময় সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা বিশ্ব মোড়লদের কাছে প্রিয়

অবৈধ, অনৈতিক, বিতর্কিত এবং দুর্বল সরকার সবসময় সাম্রাজ্যবাদী লুটেরা বিশ্ব মোড়লদের কাছে প্রিয় । এ ধরনের সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করতে তাদের জন্য সুবিধা। দুর্বল সরকারকে  নিরব সমর্থন, বৈধতা দান এবং টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে তারা মোটা অংকের স্বার্থ আদায় করে নিতে পারে। এ ধরনের সরকার বিশ্ব মোড়লদের জন্য সবসময়ই পোয়াবারো। লুটেরা দুর্বল সরকারও ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সব কিছু উজাড় করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে। এ দুয়ের কম্বিনেশন হলে অত্যাচারি লুটেরাদের জন্য চিন্তার কিছু নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। 
অনেকে আশা করে ছিলেন আমেরিকা ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিএনপির জন্য কিছু করবে। এখনো অনেকে সে আশা করছে। আমি নির্বাচনের আগে একটি স্টাটাসে বলেছিলাম খুব শীঘ্রই হয়ত এমনদিন আসবে যখন দেখব আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন তামাশার এ নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকারকে প্রকাশ্য বা নিরব সমর্থন দেবে। বিনিময়ে আদায় করে নেবে দেশবিরোধী বিরাট স্বার্থ। বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে তার সবই তাদের স্বার্থ আদায় এবং বৈশ্বিক ভাগবাটোয়ারা এবং লুটের একটি ক্ষেত্রস্থল হিসেবে সৃষ্টিতে বিরাট অনুকুল পরিস্থিতি তৈরি করছে। তারা আগেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে মাছ শিকার করেছে এবং আগামীতেও করার অপেক্ষায় আছে।  এখন দেখার বিষয় ভাগবাটোয়ারা ও দেনদরবার কোথায় গিয়ে ঠেকে এবং এ অবস্থাকে কোথায় নিয়ে দাড় করায়।

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

সত্যি বলছি এত ব্যাপক বিনোদন অতীতের কোন নির্বাচনে আর পাইনি

অতীতে জাতীয় নির্বাচন মানেই ছিল দিনের শুরুতে উৎসব আমেজ, দিনভর আনন্দ উৎসব আর সন্ধ্যার পর যখন ফলাফল আসতে শুরু করে তখন টিভির সামনে বসে টান টান উত্তেজনা, টেনশনে আক্রান্ত হওয়া। এরপর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষনার পর ফলাফল পক্ষে গেলে চূড়ান্ত আনন্দ আর বিপক্ষে গেলে তীব্র মনোকষ্ট।
যখন থেকে রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছে, যখন থেকে ভোট দেয়ার সুযোগ হয়েছে তখন থেকেই এ পর্যন্ত হয়ে আসা প্রতিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এরকমই ছিল অনুভূতি। তবে আজকের নির্বাচনেও কম আনন্দ পাইনি। ব্যাপক আনন্দ পাইছি। সারাদিনই শুধু আনন্দ আর আনন্দ। আগের ভোটে তবু সন্ধ্যা থেকে ভোট গননার পর থেকে একটা টেনশন শুরু হত। কিন্তু আজকের আনন্দে কোন রিস্ক নাই। শুধু বিনোদন। খাঁটি বিনোদন। কে জিতল কে হারল কোন টেনশন নাই।
সকালেই ঘুম থেকে উঠে টিভির সামনে বসেছি  তামাশা দেখার জন্য। পরিবারের লোকজন নিয়ে টিভিতে অনেক তামাশা দেখলাম। এর মাঝে এক কলিগ ফোন দিলেন। তাকে বল্লাম অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি। অনেকক্ষন তামাশা দেখেছি। একা একা এতবড় তামাশা দেখে আর যুৎ পাচ্ছিনা। অফিসে গিয়ে সবার সাথে মিলে টিভি, নেটের সামনে বসে সারা দেশের সব তামাশা আয়েশ করে দেখতে চাই। দ্রুত চলে আসলাম অফিসে। ফেবু, ব্লগ, অনলাইন নিউজ এবং টিভির পর্দা সব একসাথে সামনে নিয়ে তামাশা দেখতে আছি। খালি বিনুদন আর বিনুদন। ফেবুতে বিচিত্র সব  কমেন্ট, ছবি, পোস্টার আসতে আছে। এসব দেখে  কখনো কখনো  হাহাহা করে হেসে উঠি। সত্যি বলছি অতীতের কোন নির্বাচনে এত ব্যাপুক বিনোদন আর পাইনি।

শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪

ইজ্জত মাইরা দিছে রে

বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার নাকি গৃহবন্দী এটা বোঝার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি। এ বিষয়ে ফয়সালার জন্য তারা রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  এদের কি করা উচিত বলেন তো?  আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা।

খালেদা জিয়া গ্রেফতার না-কি গৃহবন্দী সে বিষয়ে স্পষ্ট করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির এমপিরা। আজ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে তারা এ অনুরোধ জানান। বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান রাষ্ট্রপতি সরকারের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করছেন।

বিএনপি জামায়াত গত ৫ বছর ধরে এই আমেরিকার পদলেহন করেছে!

মার্কিন পররাষ্ট্র  মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্ফ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার গৃহবন্দী থাকা বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।
হা হা হা ..........................।
বটে! বিএনপি জামায়াত গত ৫ বছর ধরে এই আমেরিকার পদলেহন করেছে!
বিএনপি জামায়াতের জন্য করুনা হয় যে, তারা আজো আমেরিকা কি জিনিস তা  চিনলনা।
আমার বিশ্বাস, সেদিন খুব বেশি দূরে নয় আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন  ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকারের প্রতি নিরব সমর্থন দেবে। এর বিনিময়ে তারা সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশের  কি কি এবং কত বেশি আদায় করে নিতে পারে তাই এখন দেখার বিষয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধীতার মাত্রা যত বেশি স্বার্থ আদায় এবং ভাগের পরিমানটাও তত বেশি হবে। তাদের বিরোধীতা এবং সমর্থন সবই স্বার্থের জালে বন্দী। বিরোধীতা করে ভাগ এবং ভাগের পরিমান বাড়ানোর জন্য।

এরশাদের নামের আগে স্বৈরাচার শব্দটা আর মানাচ্ছেনা

এরশাদের নামের আগে স্বৈরাচার শব্দটা আর মানাচ্ছেনা। একদমই না । আমি নিজেও একসময় তার নামের আগে স্বৈরাচার শব্দটা ব্যবহার করতাম লেখার ক্ষেত্রে অন্তত। একটা সময় পর্যন্ত এর একটা মানে ছিল। এখন আর নেই। তাই বহু আগে আমি বাদ দিয়েছি। জনাব আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ সিরাম একটা টার্ম ব্যবহার করলেন কয়েকদিন আগে একটি বৈঠকে। ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র’। তিনি এ গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর নিকৃষ্ট বলে আখ্যায়িত করলেন। তার এ টার্মটা আমার সিরাম মনে ধরেছে।
যাহোক গত ২৩ বছরে আমরা গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের যে রূপ দেখেছি তাতে এরশাদের নামের আগে এ শব্দ আর মোটেই খাটেনা।  কিন্তু প্রায় সকল গণমাধ্যমে দেখছি এখনো দেদারছে এরশাদের বিষয়ে সকল খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বৈরাচার শব্দ ব্যবহার করে চলছে । আন্ডা বাচ্চারাও লিখছে। স্বৈরাচার ছাড়া তারা এরশাদের নামই লিখতে পারেনা। হয় তারা  স্বৈরাচার শব্দের মানে জানেনা অথবা এর অপপ্রয়োগ করছে। এরশাদকে স্বৈরাচার গালি দেয়া মানে প্রকৃত স্বৈরাচারদের অপমানিত করা, লাঞ্ছিত করা, বেইজজ্জতী করা। গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের কেদাক্ত রূপ দেখার পরও এরশাদের নামের আগে যদি এখনো স্বৈরাচার শব্দ ব্যবহারের কারো স্বাদ যাগে বা মনের আশ না মেটে তাহলে তারা যেন গত ২৩ বছরের শাসকদের নামের আগে ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র’ টার্মটা ব্যবহার করে অথবা এরশাদের নামের আগে একবার স্বৈরাচার লেখার বিনিময়ে গণতান্ত্রিক স্বৈরাতান্ত্রিকদের নামের আগে যেন অন্তত এক হাজার বার স্বৈরাচার শব্দ লেখে। এ সাহস যদি না থাকে তাহলে আমার অনুরোধ আপনারা আর  এরশাদের নামের আগে এভাবে আর স্বৈরাচার শব্দটা ব্যবহার করবেননা।  প্রকৃত স্বৈরাচারদের হাসাবেননা।


সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩

ধাওয়া গণমাধ্যমে হয়ে গেল পাল্টা ধাওয়া

এক তরফা হামালা এবং ধাওয়া শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের কল্যানে হয়ে গেল পাল্টা ধাওয়া এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ।
সুপ্রীম কোর্টের প্রধান ফটক দিয়ে লাঠিসোটা হাতে  সরকার সমর্থক বহিরাগত  সন্ত্রাসীদের ভেতরে প্রবেশ এবং  সরকার বিরোধী আইনজীবীদের ধাওয়া ও  হামলার ঘটনা সরাসরি বেশ কয়েকটি টিভিতে দেখেছি। তাতে স্পষ্ট দেখা গেছে কিভাবে পুলিশের সামনে এবং প্রশ্রয়ে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান গেট খুলে তারা হিংস্র উন্মত্ততা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তাদের আসতে দেখে সরকার বিরোধী আইনজীবীরা দৌড়ে ভবনের দোতলায় এবং তিনতলায় আশ্রয় নেয়। যেসব মহিলা আইনজীবী দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেনি তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এছাড়া দোতলা এবং তিনতলায় আশ্রয়গ্রহণকারীদের প্রতিও হামলাকারিরা নিচ থেকে ইট ছুড়েছে, আর নিচে বসে তান্ডব চালিয়েছে, মটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে। টিভিতে প্রচারিত সরাসরি এসব দৃশ্যের কোথাও সরকার বিরোধী আইনজীবী কর্তৃক পাল্টা ধাওয়ার কোন দৃশ্য দেখলামনা। ধাওয়া এবং হামলার পুরোটাই ছিল একতরফা। আর ভবনের মধ্যে আশ্রয় নেয়াদের ইট ছোড়ারও কোন সুযোগ ছিলনা। নিচ থেকে তাদের প্রতি ছুড়ে মারা কিছু ইট অবশ্য তারা কুড়িয়ে ছুড়ে মেরেছে। 
কিন্তু রাতে বাসায় গিয়ে টিভিতে এ খবর প্রচারের সময় দেখি তারা বলছে সুপ্রীম কোর্টে সরকার সমর্থক এবং বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়েছে। অবশ্য অতি কষ্টে অন্তত একবারের জন্য হলেও তারা বলতে বাধ্য হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সরকার বিরোধী আইনজীবীদের  ধাওয়া দেয় এবং হামলা করে।
এরপর সকালে বিভিন্ন পত্রিকার খবরে দেখলাম তাদেরও প্রায় সকলে ধাওয়া এবং হামলাকে পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ করে ফেলেছে ঠিক রাতের টিভির খবরের মতই।
মজার বিষয় হল যেসব টিভি সরাসরি এসব দৃশ্য দেখিয়েছে তাদেরও কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত একে পাল্টা ধাওয়া এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বানিয়ে ফেলেছে।

দলান্ধ দলকানা এসব টিভির একপেশে নীতি, কুৎসা আর দালালীতে অতিষ্ট হয়ে খবর টবর সবই দেখা বাদ দিয়েছিলাম মাঝখানে । দেশের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারনে এখন অবশ্য মাঝে মধ্যে টিভির পর্দা খুলে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করি কোথায় কি হচ্ছে। 

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

কতটা ক্ষয়ে গেলে জীবন এতটা তুচ্ছ হতে পারে?

২৭/১২/২০১৩
লিবিয়ায় গাদ্দাফির পতনের পর আল জাজিরায় একটি প্রতিবেদন দেখেছিলাম। গাদ্দাফির শাসনামলে যেসব বিরোধী রাজনৈতিক লোকদের ধরে নিয়ে চিরতরে গুম করা হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা  একত্রি হয়েছে একটি জায়গায়। তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় স্বজনদের ছবি টানিয়ে প্রদর্শন করছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনে পঙ্গত্ব বরন করা একজন হুইল চেয়ারে বসে বর্ননা করছিলেন তার ওপর নির্যাতনের কথা। তার মত আরো অনেকে এসেছেন।
একই ধরনের  নানা খবর  আমরা সাদ্দামের পতনের পরও পত্রপত্রিকায় পড়েছি। এখন দেখছি সিরিয়ায় রাষ্ট্র  কর্তৃক সাধারন মানুষের বাড়িঘর বোমা মেরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার দৃশ্য । দেখছি কিভাবে রাষ্ট্র তার প্রজাদের মারে। কিভাবে জনপদের পর জনপদ, সভ্যতা, স্থাপনা রাষ্ট্র মাটির সাথে গুড়িয়ে দিতে পারে।
পৃথিবীর বহু অত্যাচারি শাসকের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক  পৈশাচিক অত্যাচারের কথা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু এমন দৃশ্য মনে হয় বিরল যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে হাত পা বেঁধে প্রকাশ্য  রাজপথে  ফেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বন্দুকের বাট, লাঠি দিয়ে  দল বেধে শাপের   মত পেটানোর দৃশ্য, বুট দিয়ে মুখে, মাথায় লাথি মারার দৃশ্য, বা কখনো পুলিশ ধরে রেখেছে আর শাসক দলের  অস্ত্রধারী লোকজন কর্তৃক পেটানোর দৃশ্য, হাত পা বেঁধে পায়ে গুলি করার দৃশ্য । এরকম লোমহর্ষক অনেক ঘটনার ভিডিও দৃশ্য আমরা টিভি, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে দেখছি। হ্যাতে হ্যান্ডকাফ পড়া বা পিছমোড়া দিয়ে হাত বেঁধে রাস্তায় ফেলে যখন একটি লোককে পেটানোর দৃশ্য দেখি এবং হাত পা বাঁধা লোকটির অসহায় অঙ্গভঙ্গি, নড়াচড়া, আকুতি এবং গড়াগড়ি দেখি তখন বুকের ভেতরটা ভেঙ্গে যায়। 
এ দৃশ্যগুলো দেখলে যেমন শিহরিত হই তেমনি মনে প্রশ্ন জাগে  কতটা নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হলে পরে, সব কিছু জবাবদিহিতার কতটা উর্ধ্বে চলে গেলে,  এভাবে ক্যামেরার সামনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনরি লোকজন কোন মানুষের ওপর বর্বর আচরনের সাহসী হতে পারে, এতটা বেপরোয়া হতে পারে? সব কিছু কতটা ক্ষয়ে গেলে, কতটা অধপতিত হলে  মানুষের জীবন এতটা তুচ্ছ হতে পারে? 

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

পাকিস্তানের সাথে সমস্ত ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের আহবান

গণজাগরন মঞ্চের নেতা কর্মীরা পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সমস্ত ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহবান জানিয়েছে। আজ পাকিস্তান হাই কমিশন অভিমুখে  বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচী থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। আমি তাদের এ দাবিকে স্ট্রংলি সাপোর্ট  করছি এবং অনতিবিলম্বে সরকারকে এ দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা নিরন্তরভাবে শুনে এসেছি তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। অতীতেও ১৯৯৬ পরবর্তীতে  যখন তারা ক্ষমতায় ছিল তখনো এ দাবির কথা শুনেছিত তাদের কাছ থেকে। ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ৪ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতহরনকারী পাকিস্তানের সাথে এ ধরনের একটি সরকার এতকাল ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এটা ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবিদার একটি সরকার কর্তৃক অজ অবধি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার প্রতি অবমাননা। আমি অনেক আগে থেকেই ফিল করতাম বিএনপি জামায়াত সরকার না হয় পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে পারে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার তাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলবেনা। তারা হয়ত একদিন পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।  কিন্তু আমিসহ লাখো মানুষের মনের কষ্ট ধারন করে আজ অবধি এ সরকার পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে। কিন্তু সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে যে অনুকুল পরিবেশ বিরাজ করছে এখনো যদি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা হয় তাহলে আমি এ সরকারের নিন্দা জানাব। তারা মুখে অনবরত মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসী এবং পক্ষের শক্তি দাবি করবে আর পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবে চলবে এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি আমরা আশা করিনা। আমি আশা করব বর্তমান প্রেক্ষাপট ও  অনুকুল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এবং এর উপযুক্ত সদ্ব্যবহার করে  পাকিস্তানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবে সরকার। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস অবিলম্বে গুটিয়ে আনা হোক। বাংলাদেশ থেকেও পাকিস্তানের দূতাবাস গুটিয়ে নিতে বলা হোক।