রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৪

সত্যি বলছি এত ব্যাপক বিনোদন অতীতের কোন নির্বাচনে আর পাইনি

অতীতে জাতীয় নির্বাচন মানেই ছিল দিনের শুরুতে উৎসব আমেজ, দিনভর আনন্দ উৎসব আর সন্ধ্যার পর যখন ফলাফল আসতে শুরু করে তখন টিভির সামনে বসে টান টান উত্তেজনা, টেনশনে আক্রান্ত হওয়া। এরপর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষনার পর ফলাফল পক্ষে গেলে চূড়ান্ত আনন্দ আর বিপক্ষে গেলে তীব্র মনোকষ্ট।
যখন থেকে রাজনীতির পাঠ শুরু হয়েছে, যখন থেকে ভোট দেয়ার সুযোগ হয়েছে তখন থেকেই এ পর্যন্ত হয়ে আসা প্রতিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এরকমই ছিল অনুভূতি। তবে আজকের নির্বাচনেও কম আনন্দ পাইনি। ব্যাপক আনন্দ পাইছি। সারাদিনই শুধু আনন্দ আর আনন্দ। আগের ভোটে তবু সন্ধ্যা থেকে ভোট গননার পর থেকে একটা টেনশন শুরু হত। কিন্তু আজকের আনন্দে কোন রিস্ক নাই। শুধু বিনোদন। খাঁটি বিনোদন। কে জিতল কে হারল কোন টেনশন নাই।
সকালেই ঘুম থেকে উঠে টিভির সামনে বসেছি  তামাশা দেখার জন্য। পরিবারের লোকজন নিয়ে টিভিতে অনেক তামাশা দেখলাম। এর মাঝে এক কলিগ ফোন দিলেন। তাকে বল্লাম অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি। অনেকক্ষন তামাশা দেখেছি। একা একা এতবড় তামাশা দেখে আর যুৎ পাচ্ছিনা। অফিসে গিয়ে সবার সাথে মিলে টিভি, নেটের সামনে বসে সারা দেশের সব তামাশা আয়েশ করে দেখতে চাই। দ্রুত চলে আসলাম অফিসে। ফেবু, ব্লগ, অনলাইন নিউজ এবং টিভির পর্দা সব একসাথে সামনে নিয়ে তামাশা দেখতে আছি। খালি বিনুদন আর বিনুদন। ফেবুতে বিচিত্র সব  কমেন্ট, ছবি, পোস্টার আসতে আছে। এসব দেখে  কখনো কখনো  হাহাহা করে হেসে উঠি। সত্যি বলছি অতীতের কোন নির্বাচনে এত ব্যাপুক বিনোদন আর পাইনি।

শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৪

ইজ্জত মাইরা দিছে রে

বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার নাকি গৃহবন্দী এটা বোঝার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে বিএনপি। এ বিষয়ে ফয়সালার জন্য তারা রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  এদের কি করা উচিত বলেন তো?  আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা।

খালেদা জিয়া গ্রেফতার না-কি গৃহবন্দী সে বিষয়ে স্পষ্ট করার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপির এমপিরা। আজ রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করে তারা এ অনুরোধ জানান। বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান রাষ্ট্রপতি সরকারের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করছেন।

বিএনপি জামায়াত গত ৫ বছর ধরে এই আমেরিকার পদলেহন করেছে!

মার্কিন পররাষ্ট্র  মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্ফ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার গৃহবন্দী থাকা বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।
হা হা হা ..........................।
বটে! বিএনপি জামায়াত গত ৫ বছর ধরে এই আমেরিকার পদলেহন করেছে!
বিএনপি জামায়াতের জন্য করুনা হয় যে, তারা আজো আমেরিকা কি জিনিস তা  চিনলনা।
আমার বিশ্বাস, সেদিন খুব বেশি দূরে নয় আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন  ৫ জানুয়ারির নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকারের প্রতি নিরব সমর্থন দেবে। এর বিনিময়ে তারা সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশের  কি কি এবং কত বেশি আদায় করে নিতে পারে তাই এখন দেখার বিষয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধীতার মাত্রা যত বেশি স্বার্থ আদায় এবং ভাগের পরিমানটাও তত বেশি হবে। তাদের বিরোধীতা এবং সমর্থন সবই স্বার্থের জালে বন্দী। বিরোধীতা করে ভাগ এবং ভাগের পরিমান বাড়ানোর জন্য।

এরশাদের নামের আগে স্বৈরাচার শব্দটা আর মানাচ্ছেনা

এরশাদের নামের আগে স্বৈরাচার শব্দটা আর মানাচ্ছেনা। একদমই না । আমি নিজেও একসময় তার নামের আগে স্বৈরাচার শব্দটা ব্যবহার করতাম লেখার ক্ষেত্রে অন্তত। একটা সময় পর্যন্ত এর একটা মানে ছিল। এখন আর নেই। তাই বহু আগে আমি বাদ দিয়েছি। জনাব আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ সিরাম একটা টার্ম ব্যবহার করলেন কয়েকদিন আগে একটি বৈঠকে। ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র’। তিনি এ গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের চেয়েও ভয়ঙ্কর নিকৃষ্ট বলে আখ্যায়িত করলেন। তার এ টার্মটা আমার সিরাম মনে ধরেছে।
যাহোক গত ২৩ বছরে আমরা গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের যে রূপ দেখেছি তাতে এরশাদের নামের আগে এ শব্দ আর মোটেই খাটেনা।  কিন্তু প্রায় সকল গণমাধ্যমে দেখছি এখনো দেদারছে এরশাদের বিষয়ে সকল খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বৈরাচার শব্দ ব্যবহার করে চলছে । আন্ডা বাচ্চারাও লিখছে। স্বৈরাচার ছাড়া তারা এরশাদের নামই লিখতে পারেনা। হয় তারা  স্বৈরাচার শব্দের মানে জানেনা অথবা এর অপপ্রয়োগ করছে। এরশাদকে স্বৈরাচার গালি দেয়া মানে প্রকৃত স্বৈরাচারদের অপমানিত করা, লাঞ্ছিত করা, বেইজজ্জতী করা। গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের কেদাক্ত রূপ দেখার পরও এরশাদের নামের আগে যদি এখনো স্বৈরাচার শব্দ ব্যবহারের কারো স্বাদ যাগে বা মনের আশ না মেটে তাহলে তারা যেন গত ২৩ বছরের শাসকদের নামের আগে ‘গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র’ টার্মটা ব্যবহার করে অথবা এরশাদের নামের আগে একবার স্বৈরাচার লেখার বিনিময়ে গণতান্ত্রিক স্বৈরাতান্ত্রিকদের নামের আগে যেন অন্তত এক হাজার বার স্বৈরাচার শব্দ লেখে। এ সাহস যদি না থাকে তাহলে আমার অনুরোধ আপনারা আর  এরশাদের নামের আগে এভাবে আর স্বৈরাচার শব্দটা ব্যবহার করবেননা।  প্রকৃত স্বৈরাচারদের হাসাবেননা।


সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩

ধাওয়া গণমাধ্যমে হয়ে গেল পাল্টা ধাওয়া

এক তরফা হামালা এবং ধাওয়া শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের কল্যানে হয়ে গেল পাল্টা ধাওয়া এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ।
সুপ্রীম কোর্টের প্রধান ফটক দিয়ে লাঠিসোটা হাতে  সরকার সমর্থক বহিরাগত  সন্ত্রাসীদের ভেতরে প্রবেশ এবং  সরকার বিরোধী আইনজীবীদের ধাওয়া ও  হামলার ঘটনা সরাসরি বেশ কয়েকটি টিভিতে দেখেছি। তাতে স্পষ্ট দেখা গেছে কিভাবে পুলিশের সামনে এবং প্রশ্রয়ে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান গেট খুলে তারা হিংস্র উন্মত্ততা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তাদের আসতে দেখে সরকার বিরোধী আইনজীবীরা দৌড়ে ভবনের দোতলায় এবং তিনতলায় আশ্রয় নেয়। যেসব মহিলা আইনজীবী দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেনি তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এছাড়া দোতলা এবং তিনতলায় আশ্রয়গ্রহণকারীদের প্রতিও হামলাকারিরা নিচ থেকে ইট ছুড়েছে, আর নিচে বসে তান্ডব চালিয়েছে, মটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে। টিভিতে প্রচারিত সরাসরি এসব দৃশ্যের কোথাও সরকার বিরোধী আইনজীবী কর্তৃক পাল্টা ধাওয়ার কোন দৃশ্য দেখলামনা। ধাওয়া এবং হামলার পুরোটাই ছিল একতরফা। আর ভবনের মধ্যে আশ্রয় নেয়াদের ইট ছোড়ারও কোন সুযোগ ছিলনা। নিচ থেকে তাদের প্রতি ছুড়ে মারা কিছু ইট অবশ্য তারা কুড়িয়ে ছুড়ে মেরেছে। 
কিন্তু রাতে বাসায় গিয়ে টিভিতে এ খবর প্রচারের সময় দেখি তারা বলছে সুপ্রীম কোর্টে সরকার সমর্থক এবং বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়েছে। অবশ্য অতি কষ্টে অন্তত একবারের জন্য হলেও তারা বলতে বাধ্য হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সরকার বিরোধী আইনজীবীদের  ধাওয়া দেয় এবং হামলা করে।
এরপর সকালে বিভিন্ন পত্রিকার খবরে দেখলাম তাদেরও প্রায় সকলে ধাওয়া এবং হামলাকে পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ করে ফেলেছে ঠিক রাতের টিভির খবরের মতই।
মজার বিষয় হল যেসব টিভি সরাসরি এসব দৃশ্য দেখিয়েছে তাদেরও কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত একে পাল্টা ধাওয়া এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বানিয়ে ফেলেছে।

দলান্ধ দলকানা এসব টিভির একপেশে নীতি, কুৎসা আর দালালীতে অতিষ্ট হয়ে খবর টবর সবই দেখা বাদ দিয়েছিলাম মাঝখানে । দেশের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারনে এখন অবশ্য মাঝে মধ্যে টিভির পর্দা খুলে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করি কোথায় কি হচ্ছে। 

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

কতটা ক্ষয়ে গেলে জীবন এতটা তুচ্ছ হতে পারে?

২৭/১২/২০১৩
লিবিয়ায় গাদ্দাফির পতনের পর আল জাজিরায় একটি প্রতিবেদন দেখেছিলাম। গাদ্দাফির শাসনামলে যেসব বিরোধী রাজনৈতিক লোকদের ধরে নিয়ে চিরতরে গুম করা হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা  একত্রি হয়েছে একটি জায়গায়। তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় স্বজনদের ছবি টানিয়ে প্রদর্শন করছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনে পঙ্গত্ব বরন করা একজন হুইল চেয়ারে বসে বর্ননা করছিলেন তার ওপর নির্যাতনের কথা। তার মত আরো অনেকে এসেছেন।
একই ধরনের  নানা খবর  আমরা সাদ্দামের পতনের পরও পত্রপত্রিকায় পড়েছি। এখন দেখছি সিরিয়ায় রাষ্ট্র  কর্তৃক সাধারন মানুষের বাড়িঘর বোমা মেরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার দৃশ্য । দেখছি কিভাবে রাষ্ট্র তার প্রজাদের মারে। কিভাবে জনপদের পর জনপদ, সভ্যতা, স্থাপনা রাষ্ট্র মাটির সাথে গুড়িয়ে দিতে পারে।
পৃথিবীর বহু অত্যাচারি শাসকের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক  পৈশাচিক অত্যাচারের কথা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু এমন দৃশ্য মনে হয় বিরল যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে হাত পা বেঁধে প্রকাশ্য  রাজপথে  ফেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বন্দুকের বাট, লাঠি দিয়ে  দল বেধে শাপের   মত পেটানোর দৃশ্য, বুট দিয়ে মুখে, মাথায় লাথি মারার দৃশ্য, বা কখনো পুলিশ ধরে রেখেছে আর শাসক দলের  অস্ত্রধারী লোকজন কর্তৃক পেটানোর দৃশ্য, হাত পা বেঁধে পায়ে গুলি করার দৃশ্য । এরকম লোমহর্ষক অনেক ঘটনার ভিডিও দৃশ্য আমরা টিভি, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে দেখছি। হ্যাতে হ্যান্ডকাফ পড়া বা পিছমোড়া দিয়ে হাত বেঁধে রাস্তায় ফেলে যখন একটি লোককে পেটানোর দৃশ্য দেখি এবং হাত পা বাঁধা লোকটির অসহায় অঙ্গভঙ্গি, নড়াচড়া, আকুতি এবং গড়াগড়ি দেখি তখন বুকের ভেতরটা ভেঙ্গে যায়। 
এ দৃশ্যগুলো দেখলে যেমন শিহরিত হই তেমনি মনে প্রশ্ন জাগে  কতটা নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হলে পরে, সব কিছু জবাবদিহিতার কতটা উর্ধ্বে চলে গেলে,  এভাবে ক্যামেরার সামনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনরি লোকজন কোন মানুষের ওপর বর্বর আচরনের সাহসী হতে পারে, এতটা বেপরোয়া হতে পারে? সব কিছু কতটা ক্ষয়ে গেলে, কতটা অধপতিত হলে  মানুষের জীবন এতটা তুচ্ছ হতে পারে? 

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

পাকিস্তানের সাথে সমস্ত ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের আহবান

গণজাগরন মঞ্চের নেতা কর্মীরা পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সমস্ত ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহবান জানিয়েছে। আজ পাকিস্তান হাই কমিশন অভিমুখে  বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচী থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। আমি তাদের এ দাবিকে স্ট্রংলি সাপোর্ট  করছি এবং অনতিবিলম্বে সরকারকে এ দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা নিরন্তরভাবে শুনে এসেছি তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। অতীতেও ১৯৯৬ পরবর্তীতে  যখন তারা ক্ষমতায় ছিল তখনো এ দাবির কথা শুনেছিত তাদের কাছ থেকে। ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ৪ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতহরনকারী পাকিস্তানের সাথে এ ধরনের একটি সরকার এতকাল ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এটা ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবিদার একটি সরকার কর্তৃক অজ অবধি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার প্রতি অবমাননা। আমি অনেক আগে থেকেই ফিল করতাম বিএনপি জামায়াত সরকার না হয় পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে পারে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার তাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলবেনা। তারা হয়ত একদিন পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।  কিন্তু আমিসহ লাখো মানুষের মনের কষ্ট ধারন করে আজ অবধি এ সরকার পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে। কিন্তু সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে যে অনুকুল পরিবেশ বিরাজ করছে এখনো যদি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা হয় তাহলে আমি এ সরকারের নিন্দা জানাব। তারা মুখে অনবরত মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসী এবং পক্ষের শক্তি দাবি করবে আর পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবে চলবে এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি আমরা আশা করিনা। আমি আশা করব বর্তমান প্রেক্ষাপট ও  অনুকুল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এবং এর উপযুক্ত সদ্ব্যবহার করে  পাকিস্তানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবে সরকার। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস অবিলম্বে গুটিয়ে আনা হোক। বাংলাদেশ থেকেও পাকিস্তানের দূতাবাস গুটিয়ে নিতে বলা হোক।

বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৩

সুতরাং আমি শঙ্কিত।

একেবারে অতি নিকট অতীতে  বিভিন্ন দেশে যারাই যুগের পর যুগ ধরে  ক্ষমতায় টিকে ছিল এবং এবং এখনো আছে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মিল পাওয়া যায়। চূড়ান্ত দলীয়করন, গোষ্ঠীকরন, এলাকাকরন, আত্মীয়করন  এবং সম্ভব হলে একেবারে পারিবারিকীকরন, নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা, সকল বিরোধীদের নির্মমভাবে খতমকরন, হত্যা, গুপ্তহত্যা প্রভৃতি। রাষ্ট্রকে একেবারে নিজেদের পরিবার পরিজন এবং আত্মীয়স্বজনের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা  করে নেয় তারা। ক্ষমতার নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র যথা সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ এবং শাসন বিভাগে এগুলো  করা হয় অতি যতেœর সাথে। তথাকথিত গনতন্ত্র চালু থাকলে দেশের সব মন্ত্রণালয়গুলো দলের মধ্য থেকে শাসকের প্রতি একান্ত অনুগতদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে দেয়া হয়। দল ব্যবস্থার বদলে যদি রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র বা অন্যকোন ব্যবস্থা থাকে তাহলে মন্ত্রণালয়গুলো শাসক তার পরিবারের সদস্য যেমন নিজের ছেলে, মেয়ে, মেয়ের জামাই, ছেলের বউ, ভাই, বোন, ভাইপো, বোনপো, ভাবী, এভাবে ক্রমে কাছ থেকে দূরের আত্মীয়দের মধ্যে বন্টন করা হয়। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিচার বিভাগসহ অন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদেও শাসকের  প্রতি একান্ত অন্ধ অনুগত আত্মীয়স্বজনদের বসানো হয়। গাদ্দাফি, সাদ্দাম এর ছেলে মেয়ে, মেয়ের জামাই এবং আত্মীয়স্বজন কর্তৃক রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, পদ পদবি দখলের খবর আমরা জেনেছি সম্প্রতি আরব গণজাগরনের সময়। দীর্ঘস্থায়ী শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে শুধু যে শাসকের আত্মীয় স্বজনদের বসানো হয় তা নয় বরং দল বা আত্মীয় স্বজনের মধ্যে যারা অসৎ, তাদের প্রাধান্য দেয়া হয়। কারণ শাসক যদি অত্যাচারি, দুরাচার জুলুমবাজ হয় তাহলে সৎ লোককে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালে সে তার জন্য সমস্যা হয়ে দাড়ায়। কারণ সন্তান বা নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হলেও তারা শাসকের  সব অন্যায় নির্দেশ সময়মত  পালন করবেনা। তাই তার চারপাশের সব পদের সব লোকজনের কাছ থেকে সদা অন্ধ আনুগত্যের  উপযুক্ত লোকজনকে বসানো হয় যাতে কখনো তার সাথে তারা বিশ্বাসঘাতকতা না করে। সেজন্য তাদের সামনে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সকল প্রকার ভোগ বিলাসের সকল দরজা খুলে দেয়া হয়। সকল প্রকার ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট, দুর্ণীতির ক্ষেত্রে তাদেরকে জবাবদিহিতার  উর্ধ্বে রাখা হয়। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নিরঙ্কুশ আনুগত্য। এজন্য তারা সম্ভব হলে রাষ্ট্রের পিয়ন থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পদ পর্যন্ত এভাবে ধীরে ধীরে দলীয়করন, আত্মীয়করন, পারিবারিকীকরন করে থাকে যাতে চরম দু:সময়েও তারা দুরাচার অত্যাচারী শাসকের পক্ষে থাকে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তার সকল অন্যায় নির্দেশ যাতে তারা পালন করে, জনগনের বুকে গুলি চালাতে যেন কেউ কোন কার্পন্য না করে।
এছাড়া এসব দীর্ঘস্থায়ী দুরাচারী শাসকদের আরেকটি মিল হল--চরম নির্মমতা। গদি  টিকিয়ে রাখার জন্য এরা শত শত, হাজার হাজার এমনকি সব জনগনকেও মেরে ফেলতে কুন্ঠাবোধ করেনা। সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফি, হোসনী মোবারক, হাফিজ আল আসাদসহ এ ধরনের সব শাসকের বিরুদ্ধেই নিজ জনগনের প্রতি গনহত্যা পরিচালনার নজির রয়েছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। বর্তমানে বাশার আল আসাদ যে কত হাজার মানুষ মেরেছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার কোন সঠিক হিসেব নেই। গোটা দেশটাকেই সে ছারখার করে দিয়েছে। চেঙ্গিস, হালাকু সকলের নির্মমতা যেন ম্লান হতে বসেছে তার ধ্বংস যজ্ঞের জন্য। চেঙ্গিস হালাকুরা তবু পরদেশের লোকজন হত্যা করত। কিন্তু এসব পাপাচারির দল নিজ দেশের মানুষ মারছে নির্বিচারে, নিজ দেশ ধ্বংস করছে অকাতরে।

রাষ্ট্রের সকল শসস্ত্র বাহিনীগু, সকল গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর এসব শাসকরা তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত বা শাসক পরিবারের বাহিনী এবং সেক্টরে পরিণত করে ফেলে । রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের জনগন রক্ষার চেয়ে শাসক পরিবারকে পাহারা দেয়াই তখন তাদের মূল দায়িত্ব হয়ে দাড়ায়।

শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য এসব দুরাচারী তাদের সকল প্রতিপক্ষকে নির্মমভাবে খতম করে ধীরে ধীরে। এদিকের মিল ছাড়াও তাদের মধ্যে আরো একটি মিল তাহল বিরোধীদের খতম, দমন এবং বিনাসের জন্য গুপ্ত হত্যা পরিচালনা।

কুশাসন, দুু:শাসন আর সুশাসন যাই বলেননা কেন দীর্ঘস্থায়ী শাসনের জন্য এ ধরনের নীতি যেসব শাসক অতীতে অবলম্বন করেছে এবং এখনো করছে তাদের সাথে বাংলাদেশের এখনকার শাসননীতির কোন মিল পাচ্ছেন কি? উপরে যে সামান্য কয়েকটি দিকের কথা তুলে ধরা হল তার সাথে একে একে মিলিয়ে দেখুনতো বাংলাদেশের এখনকার চিত্রের কোন মিল আছে কি-না? কোন মিল খুঁজে পানকি? যদি ভুলে গিয়ে থাকেন তাহলে গত ৫ বছরে প্রশাসনে  পদোন্নতির চিত্র সংগ্রহ করে দেখুন কিভাবে সর্ব নিম্ন স্তর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে নিজেদের লোক বসানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি পুলিশের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদের দিকে খেয়াল করেন। অভ্যুত্থানের ঝুকি নেয়ার মত কোন জেনারেল বাংলাদেশে নেই বলে সজিব ওয়াজেদ জয় যে মন্তব্য সম্প্রতি করেছেন তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। তার এ ঘোষনার মাধ্যমে জাতিকে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এ বাহিনীর সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে এখন তাদের প্রতি চূড়ান্ত অনুগত  কর্মকর্তাদের বসানো হয়েছে এবং তারা কখনো তাদের কথার বাইরে যাবেনা এ মর্মে তারা নিশ্চিত হয়েছেন তারা। সে কারনেই তিনি এ ধরনের স্বস্তির ঘোষনা দিতে পারলেন। 

বর্তমান বিএনপি জামায়াত হয়ত  আশা করেছিল  আওয়ামী লীগ সরকারের একেবারে শেষের দিকে তাদের শাসনের লৌহযবনিকা ঢিলা হয়ে যাবে, প্রশাসন, পুলিশসহ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অন্যান্য গেটুগলোতে পাহারাদার হিসেবে যারা বসে আছে তারা আর শেষের দিকে হয়ত সরকারের প্রতি অতটা অনুগত থাকবেনা। যেমন ১৯৯৬ এবং  ২০০৬ সালে দুবারই বিএনপি সরকারের শেষের দিকে রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিকমত কাজ করেনি তেমন বর্তমান সরকারেরও শেষ দিকে হয়ত সব ঢিলে হয়ে যাবে এবং সেই সুযোগে তারা আন্দোলন তীব্র করে সরকারকে দাবি আদায়ে বাধ্য করবে। খেয়াল করুন  ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের শেষের দিকে রাষ্ট্রযন্ত্র কিভাবে ঢিলা হয়ে গিয়েছিল। কিভাবে সব ঠায় দাড়িয়েছিল এবং কিভাবে চারদিকে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের একটি অংশ  বিদ্রোহ করে জনতার মঞ্চ গড়ে তুলেছিল। ২৮ অক্টেবর পুলিশের চোখের সামনে কিভাবে মানুষ হত্যার পৈশাচিক উৎসব হয়েছিল। পুলিশ সেদিন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল বন্দুক এবং লাঠি হাতে।  এর কারণ কি আপনারা খেয়াল করেছেন? এর একটি কারণ হতে পারে এখন যেমন ঠান্ডা মাথায় রাজপথে গুলি করে পুলিশ সরকার বিরোধী লোক হত্যা করে বিএনপি সরকার হয়ত তখন এ ধরনের অন্ধ আনুগত্যপরায়ন দলীয় ক্যাডারদের  পুলিশ হিসেবে এভাবে  এতমাত্রায় নিয়োগ দেয়নি  এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে এত মাত্রায় দলীয়করন, এলাকাকরন করেনি।  । সরকারের প্রতি বিদ্রোহ কারর মত বিরোধী মনা কর্মকর্তাদেরও বিএনপি তখন রেখেছিল ফলে তারা জনতার মঞ্চ করেছিল। কিন্তু এখন কি রাষ্ট্রের কোন পদে এ ধরনের লোক আছে যারা সরকারের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেবে যেমন তারা নিয়েছিল বিএনপি সরকারের সময়? এমন একটি লোকও কোন পদে রাখেনি আওয়ামী লীগ সরকার। 

বর্তমান সরকার শেষের দিকে স্বেচ্ছাচারের যে নজির সৃষ্টি করেছে এবং এখনো যেভাবে সরকার চলছে  সে অবস্থায়ও পুলিশ ঠিক আগের মতই রাজপথে সরকার বিরোধী মিছিলকারীদের প্রতি  গুলি ছুড়ছে, নির্বিচারে হত্যা  করে চলেছে অত্যন্ত নির্মমভাবে। সরকারবিরোধী মিছিলে এভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা,  গ্রেফতার করে প্রকাশ্যে পিস্তল, বন্দুক ঠেকিয়ে হাতে, পায়ে গুলি করার নজির অতীতে হয়নি। এখনো পুলিশ সমান হিংস্রতা নিয়ে রাজপথে মিছিলকারিদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে।  খোঁজ নিলে হয়ত দেখা যাবে একদিন এদের অনেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নামধারী ক্যাডার হিসেবে বা সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসঙ্গঠনের ক্যাডার হিসেবে  অবৈধ অস্ত্র হাতে বিরোধী ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলের  লোকজনকে গুলি করে হত্যা করেছে, সন্ত্রাস চাঁদাবাজি করেছে তারাই আজ রাষ্ট্রীয় বন্দুক হাতে প্রতিপক্ষকে গুলি করে হত্যা করছে মহাআনন্দে। রাজপথে বন্দুক উচিয়ে  গুলি ছুড়তে ছুড়তে মিছিলকারীদের ধাওয়া করতে পারে  যারা, মিছিলকারীদের ধরে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করতে পারে যারা, ঠান্ডা মাথায়  হাতে পায়ে গুলি করে পঙ্গু করতে পারে যারা এমন লোকদের দিয়ে যদি পুরো বাহিনী ভরে ফেলা যায় তাহলে  বিরোধী দমনে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে তেমন সমস্যা হয়না।  এদেরকে বলেও দিতে হয়না কখন কি করতে হয়। এরা নিজেরাই জানে তাদের কাজ কি।
গত ৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের যে শাসন নীতি তার প্রতি পদক্ষেপ থেকে এটি স্পষ্ট যে তারা  দীর্ঘমেয়াদে  ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা নিয়ে সবকিছু করেছে। এখনো ঠিক আগের মতই  সরকারের প্রতি সকল সেক্টর থেকে নিরঙ্কুশ আনুগত্য তারই সাক্ষ্য বহন করছে।

তাছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করিনা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মত লোক মাত্র তিন মাসের জন্য এরকম একটি বিতর্কিত সরকারের উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করবেন। নিশ্চয়ই এ মর্মে তাকেসহ যারাই এ সরকারের পদপদবী গ্রহণ করেছে  তাদের নিশ্চিত করা হয়েছে এ বিষয়ে। তা নাহলে এরশাদও মাত্র তিন মাসের জন্য এতবড় বেঈমান খেতাবের তিলক ধারন করবেন বলে বিশ্বাস করিনা। নিশ্চয়ই এর মাঝে মধু আছে। সে মর্মে তারা নিশ্চিত হয়েছে হয়ত। তারা মধুর গন্ধ পেয়েই এরকম ঝুকি নিয়েছেন।

সুতরাং আমি শঙ্কিত।

মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৩

ম্যানেজ গেমের মাইনকা চিপায় জামায়াত বিএনপি

যেহেতু টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরের অধিকার এ সরকারের নেই এবং তারপরও তারা এটি করেছে এবং যেহেতু ভবিষ্যতে যেকোন সরকার একে অবৈধ চুক্তি বলে বাতিল করে দিতে পারে সেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন দায়িত্ব হয়ে পড়েছে তাদের স্বার্থবাহি এ চুক্তিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ সরকারকে যুগ যুগ ধরে  ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা।

আর  জনগনকে বাদ দিয়ে এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই দিনরাত পা চাটছে বিএনপি জাময়াত ক্ষমতায় আসার জন্য । দর কষাকষি এবং প্রতিযোগিতা চলছে  ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এবং ক্ষমতায় আসার জন্য কে কত বেশি দাসখত দিতে পারে, কে কত বেশি দেশকে বিলিয়ে দিতে পারে, কে কত বেশি দেশকে উজাড় করে দিতে পারে লুটপাটের জন্য  ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতায় আরোহনে সহায়তাকারী প্রভুদের পায়ে। প্রতিযোগিতা চলছে কে কত বেশি মীরজাফর হতে পারে, কে কত বেশি লেন্দুপ দর্জি হতে পারে, কে কত বড় গোলাম  হতে পারে, কে কত বেশি নির্মম হিংস্র হতে পারে ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতা আরোহনের জন্য।

গত ৫ বছরে বিএনপি জামায়াত জনগনের কোন ইস্যুতে কোনদিন কোন আন্দোলন সংগ্রাম করেনি, দেশ ও জনগনের জীবন মরনের কোন ইস্যুতে সোচ্চার হয়নি-শুধু ক্ষমতায় যাবার  তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু ছাড়া। কিন্তু এই ইস্যুতেও তারা কখনো জনগনকে সাথে নিয়ে তেমন কোন বড় আন্দোলন গড়ে তোলেনি। বিএনপির প্রতি বিপুল জনগোষ্ঠীর বিপুল সমর্থনের কোন তোয়াক্কা তারা না করে সবসময় প্রভুদের ম্যানেজ করে ম্যানেজ গেমের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার ধান্ধা করেছে আর পা চাটছে। আজ যুক্তরাষ্ট্রকে  বর্তমান সরকার টিকফা চুক্তির মাধ্যমে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে। তাই এ প্রভুর কাছে এখন বিএনপিকে হয়ত দাসখত দিতে হবে তারা ক্ষমতায় আসলে এ চুক্তি তারা টিকিয়ে রাখবে কিনা সে মর্মে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র  হয়ত এই সরকারকেই রক্ষা করবে চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য।  দেখুন   দেশ বিরোধী এতবড় চুক্তির বিরুদ্ধেও আজ তাদের একটি কথা উচ্চারনেরও হিম্মত নেই; এমনভাবেই তারা ক্ষমতা আরোহনের ম্যানেজ গেমের মাইনকা চিপায় আটকা পড়েছে।

আমি বিশ্বাস করি জাময়াত বিএনপি যদি গত ৫ বছরে শুধুমাত্র জনগনের  ইস্যুতে, দেশের ইস্যুতে, এই সরকারের জনবিরোধী, গণবিরোধী, দেশবিরোধী অপকর্ম, লুৃটপাট নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সদা সোচ্চার থাকত শুরু থেকে তাহলে আজ আলাদা করে আর তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আন্দোলন করতে হতনা। ও জিনিসি বহু আগেই জনগন তাদের আদায় করে দিত। আর শুরু থেকেই সোচ্চার থাকলে আজ বিএনপি জামায়াতকে  দিনে দিনে এভাবে সরকার ছারখার করতে পারতনা, এভাবে দানবীয় আকারে তাদের ওপর সওয়ার হতে পারতনা।

কিন্তু দেশ বিলিয়ে দিয়ে পরের ধন বিলিয়ে দিয়ে এত সহজে যেখানে ম্যানেজ করে   ক্ষমতায় আসার সুযোগ রয়ে গেছে সেখানে কে এত হৈ হাঙ্গামার পথে পা বাড়ায়?  এখন বোঝেন ম্যানেজ গেম কে কিভাবে খেলে এবং খেলতে পারে।

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

স্কুলে তাহলে কি শেখাবে?


রাজধানীর নামকরা একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রণীত ভর্তি পরীক্ষার নির্দেশিকা দেখুন। আমার প্রশ্ন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মা বাবাকে বাসায় বসে একটি বাচ্চাকে যদি এসব শিখিয়ে উপযুক্ত করতে হয় তাহলে স্কুলে কি শেখানো হবে আর স্কুলে ভর্তিরই বা দরকার কি? প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির উপযুক্ত করার জন্য  এসব বিষয় শেখাতে গিয়ে  অবুঝ শিশুদের ওপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করছেন অনেক মা বাবা এবং গৃহশিক্ষক। হায়  আমাদের ভ্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা।

আমি আমার মেয়ের ভর্তির জন্য একটি স্কুল থেকে ভর্তি পরীক্ষার এ নির্দেশিকা সংগ্রহ করলাম।

ইংরেজি

ক.A n‡Z Z  পর্যন্ত Letter দিয়ে শব্দ গঠন কর |

খ. শব্দার্থ লিখ
গ.. Letter দ্বারা খালিঘর পূরন কর
ঘ.  Word  দ্বারা খালিঘর পূরন কর
ঙ.  এলোমেলো Letter সাজিয়ে সঠিক Word তৈরি কর
চ..  এলোমেলো Word সাজিয়ে সঠিক বাক্য গঠন  কর
ছ. বিপরীত শব্দ ।
জ. সঠিক উত্তরটিতে টিক চিহ্ন দেওয়া।
ঝ. শব্দের ধাঁধাঁ।
ঞ. ছবি দেখে নাম লেখা (ইংরেজিতে)।
ট. ইংরেজিতে বাক্য রচনা।
ঠ. ইংরেজিতে বার মাসের নাম লেখা।
ড. ইংরেজিতে ৭ দিনের নাম লেখা
ঢ. ইংরেজিতে ৫টি করে পশু, পাখি, রং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস  ও প্রাকৃতিক বস্তুর নাম লেখা।

গণিত
ক. ১-১০০ পর্যন্ত অংকে ও কথায় লেখা।
খ. জোড় ও বিজোড় সংখ্যা।
গ. যোগ বিয়োগ (দুই সংখ্যার)।
ঘ. ছোট থেকে বড় এবং বড় থেকে ছোট সংখ্যা ক্রমানুসারে সাজানো।
ঙ. কথার অংক : যোগ বিয়োগ (দুই সংখ্যার) ।
চ. গুনের নামতা ১- ১০ পর্যন্ত।
ছ. শূন্যস্থান পূরণ কর।
জ. ১--১০০ পর্যন্ত ইংরেজিতে বানান করে লেখা।
ঝ. সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর, পক্ষ, যুগ, শতাব্দি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা।
ঞ. অংকের ধাঁধাঁ।

বাংলা :
ক. স্বরবর্ন ও ব্যঞ্জনবর্ণের পরিচয়।
মাত্রাযুক্ত, মাত্রাহীন ও অর্ধমাত্রাযুক্ত অক্ষরগুলো কয়টি ও কিকি?
খ. স্বরচিহ্ন ও ফলাযোগে শব্দ গঠন।
গ. স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ দিয়ে শব্দ গঠন
ঘ. এলোমেলো বর্ণ সাজিয়ে সঠিক শব্ত তৈরি।
ঙ. খালিঘর পূরন করে শব্দ গঠন।
চ. খালিঘর পূরন করে বাক্য গঠন।
ছ. নির্দিষ্ট শব্দ দিয়ে বাক্যরচনা।
জ. সঠিক উত্তরটিতে টিক চিহ্ন দেয়া।
ঝ. শব্দের ধাঁধাঁ।
ঞ. বিপরীত শব্দ।
ট. ছন্দ মিলিয়ে শব্দ লেখা । যেমন : কবি = রবি, ছবি, নদী ইত্যাদী।
ঠ. মা, গরু, বিড়াল, ঘোড়া, কুকুর ইত্যাদি দিয়ে ৫টি বাক্য রচনা লেখা।
ড. বাংলা বার মাসের নাম।
ঢ. ছয়ঋতুর নাম।
ণ. ৭ দিনের নাম।
ত. ৫টি করে পশু, পাখি, রং, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও প্রাকৃতিক বস্তুর নাম।
থ. জাতীয় বিষয়বস্তুর নামসমূহ।
দ. আত্মীয়ের পরিচয়।
ধ.    নিজের ঠিকানা।


উপরোক্ত বিষয়ে ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা। এছাড়াও তাদের ভর্তি নির্দেশিকায় রয়েছে ৪০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা।
আমার মেয়েটির বয়স ৬ বছর 3 মাস হয়েছে। ভর্তির নির্দেশিকা অনুযায়ী তার মা তাকে দুই সংখ্যার  বিয়োগ অঙ্ক, অংকের ধাঁধা, খালিঘর পূরন শেখাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। আমার মেয়েটি হাতে রেখে বিয়োগ অংক মাথায় নিতে পারছেনা। এজন্য মাঝে মাঝে মার খাচ্ছে। বকাঝকা তো নিত্য নৈমক্তিক ব্যাপার। আমি আমার মেয়ের মাকে বলেছি খবরদার এসব পড়াশুনা নিয়ে আমার সামনে কখনো আমার মেয়েকে মারতে পারবেনা। এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়েছে আমার সাথেও। আমি বলেছি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য যদি একটি শিশুকে মার খেতে হয় পড়ালেখা শিখতে তাহলে সে পড়াশুনার দরকার নেই। ওই স্কুলে আমি ভর্তি করাবোনা। আমার স্ত্রী চিৎকার শুরু করেছে। তোমার মেয়ে কোথাও চান্স পাবেনা। রাস্তায় রাস্তায় ঘরতে হবে। ঘরে বসে থালা বাসন মাজাও। ঘর ঝাড়– দেয়া শেখাও। তুমি পড়াও। আমি তাকে পড়াতো পারবনা। সে কোথাও চান্স না পেলে তোমার তো কিছু যায় আসেনা। এভাবে প্রায় প্রতিদিনি চলছে তার পড়াশুনা নিয়ে ঝগড়াঝাটি। তারপরও আমি তাকে ঢাকার বড় দুটি নামকরা স্কুল ভিকারুননিসা ও আইডিয়াল স্কুলে ভর্তির চিন্তা মাথা থেকে বিদায় করতে সক্ষম হয়েছি। কারণ আমি আমি তিন/চার বছর শিক্ষা বিটে কাজ করার সময় নামকরা এসব স্কুলের হাজারো অপকর্ম, দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করেছি, নাম করা স্কুলে মূলত সমস্ত পড়াশুনা ঘরে বসে অভিভাবকদেরই করাতে হয়, প্রাইভেট মাস্টার রেখে, অথবা শিক্ষকের কাছে ব্যাচে পাঠিয়ে। স্কুলে হয় শুধু হাজিরার কাজ। এসব দেখে দেখে নামি দামি স্কুলের প্রতি আমার মোহ নেই। তাই আমি গিয়েছিলাম মাঝারি গোছের নামকরা একটি স্কুলে। কিন্তু তার  নমুনা হল এই। 

এর নিচে নামার কথা বললে আমার স্ত্রী উত্তর দিল তোমার মেয়েকে বস্তির স্কুলে নিয়ে ভর্তি কর। ছয় বছর ৩ মাস হয়েছে এখনো স্কুলে ভর্তি করাইনি এ নিয়ে তার টেনশনের শেষ নেই। অনেকে চার/পাঁচ বছর বয়সেই ভর্তি করায়।
গত বছরও সে ভর্তি করাতে চেয়েছিল। আমি বলেছি ওয়ানে চান্স পাবেনা। আর জুনিয়র ওয়ানে যা শেখায় তার চেয়ে ঘরে বসে সে ভাল শিখতে পারবে আমরা যদি সময় দেই। জুনিয়র ওয়ানে  যা শেখাবে তাতে স্কুলে আনা নেয়ার হয়রানিই শুধু সার হবে। এসব বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম একবারে ওয়ানেই ভর্তি করাবো।
কিন্তু ওয়ানে ভর্তির নির্দেশিকায় লেখা দেখলাম সামনের জানুয়ারি পর্যন্ত বয়স হতে হবে ৬ বছর ৬ মাস থেকে সাত বছর ৫ মাস। 
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির উপযুক্ত করতে গিয়ে আমার মেয়েটির করুন দশা দেখে আমি সত্যি তার জন্য ব্যথিত। আমার চোখে পানি ঝরছে। আমি বললাম ওদের নিয়ম অনুযায়ী সামনের জানুয়ারি মাসেও আমার মেয়ের বয়স  বছর ৬ মাস হবেনা। চেষ্টা করতে থাক। যদি চান্স পায় তো পাবে। একথা শুনে আমার স্ত্রী ক্ষেপে গেল। তোমার মেয়েকে ঘরে বসে বুড়ি বানাও। স্কুলে ভর্তি করাতে হবেনা। শেষে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘরতে হবে। আমি শেষে বললাম তাহলে এক কাজ কর, জুনিয়র ওয়ান, ওয়ান যেখানে যা আছে সব জায়গায় চেষ্টা কর। যেখানে চান্স পায় ভর্তি করানো হবে এবার।

ছোট্ট শিশুরা আমি তোমাদের জন্য দু:খিত। ভ্রান্ত ব্যবস্থার শিকার আমরা সবাই।