সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩

ধাওয়া গণমাধ্যমে হয়ে গেল পাল্টা ধাওয়া

এক তরফা হামালা এবং ধাওয়া শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমের কল্যানে হয়ে গেল পাল্টা ধাওয়া এবং উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ।
সুপ্রীম কোর্টের প্রধান ফটক দিয়ে লাঠিসোটা হাতে  সরকার সমর্থক বহিরাগত  সন্ত্রাসীদের ভেতরে প্রবেশ এবং  সরকার বিরোধী আইনজীবীদের ধাওয়া ও  হামলার ঘটনা সরাসরি বেশ কয়েকটি টিভিতে দেখেছি। তাতে স্পষ্ট দেখা গেছে কিভাবে পুলিশের সামনে এবং প্রশ্রয়ে সুপ্রীম কোর্টের প্রধান গেট খুলে তারা হিংস্র উন্মত্ততা নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তাদের আসতে দেখে সরকার বিরোধী আইনজীবীরা দৌড়ে ভবনের দোতলায় এবং তিনতলায় আশ্রয় নেয়। যেসব মহিলা আইনজীবী দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেনি তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে হামলাকারীরা। এছাড়া দোতলা এবং তিনতলায় আশ্রয়গ্রহণকারীদের প্রতিও হামলাকারিরা নিচ থেকে ইট ছুড়েছে, আর নিচে বসে তান্ডব চালিয়েছে, মটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে। টিভিতে প্রচারিত সরাসরি এসব দৃশ্যের কোথাও সরকার বিরোধী আইনজীবী কর্তৃক পাল্টা ধাওয়ার কোন দৃশ্য দেখলামনা। ধাওয়া এবং হামলার পুরোটাই ছিল একতরফা। আর ভবনের মধ্যে আশ্রয় নেয়াদের ইট ছোড়ারও কোন সুযোগ ছিলনা। নিচ থেকে তাদের প্রতি ছুড়ে মারা কিছু ইট অবশ্য তারা কুড়িয়ে ছুড়ে মেরেছে। 
কিন্তু রাতে বাসায় গিয়ে টিভিতে এ খবর প্রচারের সময় দেখি তারা বলছে সুপ্রীম কোর্টে সরকার সমর্থক এবং বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়েছে। অবশ্য অতি কষ্টে অন্তত একবারের জন্য হলেও তারা বলতে বাধ্য হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সরকার বিরোধী আইনজীবীদের  ধাওয়া দেয় এবং হামলা করে।
এরপর সকালে বিভিন্ন পত্রিকার খবরে দেখলাম তাদেরও প্রায় সকলে ধাওয়া এবং হামলাকে পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ করে ফেলেছে ঠিক রাতের টিভির খবরের মতই।
মজার বিষয় হল যেসব টিভি সরাসরি এসব দৃশ্য দেখিয়েছে তাদেরও কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত একে পাল্টা ধাওয়া এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বানিয়ে ফেলেছে।

দলান্ধ দলকানা এসব টিভির একপেশে নীতি, কুৎসা আর দালালীতে অতিষ্ট হয়ে খবর টবর সবই দেখা বাদ দিয়েছিলাম মাঝখানে । দেশের বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারনে এখন অবশ্য মাঝে মধ্যে টিভির পর্দা খুলে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করি কোথায় কি হচ্ছে। 

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

কতটা ক্ষয়ে গেলে জীবন এতটা তুচ্ছ হতে পারে?

২৭/১২/২০১৩
লিবিয়ায় গাদ্দাফির পতনের পর আল জাজিরায় একটি প্রতিবেদন দেখেছিলাম। গাদ্দাফির শাসনামলে যেসব বিরোধী রাজনৈতিক লোকদের ধরে নিয়ে চিরতরে গুম করা হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা  একত্রি হয়েছে একটি জায়গায়। তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয় স্বজনদের ছবি টানিয়ে প্রদর্শন করছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক নির্যাতনে পঙ্গত্ব বরন করা একজন হুইল চেয়ারে বসে বর্ননা করছিলেন তার ওপর নির্যাতনের কথা। তার মত আরো অনেকে এসেছেন।
একই ধরনের  নানা খবর  আমরা সাদ্দামের পতনের পরও পত্রপত্রিকায় পড়েছি। এখন দেখছি সিরিয়ায় রাষ্ট্র  কর্তৃক সাধারন মানুষের বাড়িঘর বোমা মেরে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার দৃশ্য । দেখছি কিভাবে রাষ্ট্র তার প্রজাদের মারে। কিভাবে জনপদের পর জনপদ, সভ্যতা, স্থাপনা রাষ্ট্র মাটির সাথে গুড়িয়ে দিতে পারে।
পৃথিবীর বহু অত্যাচারি শাসকের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক  পৈশাচিক অত্যাচারের কথা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু এমন দৃশ্য মনে হয় বিরল যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকার বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে হাত পা বেঁধে প্রকাশ্য  রাজপথে  ফেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বন্দুকের বাট, লাঠি দিয়ে  দল বেধে শাপের   মত পেটানোর দৃশ্য, বুট দিয়ে মুখে, মাথায় লাথি মারার দৃশ্য, বা কখনো পুলিশ ধরে রেখেছে আর শাসক দলের  অস্ত্রধারী লোকজন কর্তৃক পেটানোর দৃশ্য, হাত পা বেঁধে পায়ে গুলি করার দৃশ্য । এরকম লোমহর্ষক অনেক ঘটনার ভিডিও দৃশ্য আমরা টিভি, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে দেখছি। হ্যাতে হ্যান্ডকাফ পড়া বা পিছমোড়া দিয়ে হাত বেঁধে রাস্তায় ফেলে যখন একটি লোককে পেটানোর দৃশ্য দেখি এবং হাত পা বাঁধা লোকটির অসহায় অঙ্গভঙ্গি, নড়াচড়া, আকুতি এবং গড়াগড়ি দেখি তখন বুকের ভেতরটা ভেঙ্গে যায়। 
এ দৃশ্যগুলো দেখলে যেমন শিহরিত হই তেমনি মনে প্রশ্ন জাগে  কতটা নৈরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হলে পরে, সব কিছু জবাবদিহিতার কতটা উর্ধ্বে চলে গেলে,  এভাবে ক্যামেরার সামনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনরি লোকজন কোন মানুষের ওপর বর্বর আচরনের সাহসী হতে পারে, এতটা বেপরোয়া হতে পারে? সব কিছু কতটা ক্ষয়ে গেলে, কতটা অধপতিত হলে  মানুষের জীবন এতটা তুচ্ছ হতে পারে? 

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

পাকিস্তানের সাথে সমস্ত ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নের আহবান

গণজাগরন মঞ্চের নেতা কর্মীরা পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সমস্ত ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহবান জানিয়েছে। আজ পাকিস্তান হাই কমিশন অভিমুখে  বিক্ষোভ মিছিল এবং অবস্থান কর্মসূচী থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। আমি তাদের এ দাবিকে স্ট্রংলি সাপোর্ট  করছি এবং অনতিবিলম্বে সরকারকে এ দাবি মেনে নেয়ার আহবান জানাচ্ছি। বর্তমান সরকারের কাছে আমরা নিরন্তরভাবে শুনে এসেছি তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। অতীতেও ১৯৯৬ পরবর্তীতে  যখন তারা ক্ষমতায় ছিল তখনো এ দাবির কথা শুনেছিত তাদের কাছ থেকে। ৩০ লক্ষ শহীদ এবং ৪ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতহরনকারী পাকিস্তানের সাথে এ ধরনের একটি সরকার এতকাল ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এটা ভাবতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বলে দাবিদার একটি সরকার কর্তৃক অজ অবধি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার প্রতি অবমাননা। আমি অনেক আগে থেকেই ফিল করতাম বিএনপি জামায়াত সরকার না হয় পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলতে পারে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার তাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলবেনা। তারা হয়ত একদিন পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।  কিন্তু আমিসহ লাখো মানুষের মনের কষ্ট ধারন করে আজ অবধি এ সরকার পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে। কিন্তু সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমানে যে অনুকুল পরিবেশ বিরাজ করছে এখনো যদি পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করা হয় তাহলে আমি এ সরকারের নিন্দা জানাব। তারা মুখে অনবরত মুক্তিযুদ্ধের চেতানায় বিশ্বাসী এবং পক্ষের শক্তি দাবি করবে আর পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবে চলবে এ ধরনের দ্বিমুখী নীতি আমরা আশা করিনা। আমি আশা করব বর্তমান প্রেক্ষাপট ও  অনুকুল পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এবং এর উপযুক্ত সদ্ব্যবহার করে  পাকিস্তানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবে সরকার। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস অবিলম্বে গুটিয়ে আনা হোক। বাংলাদেশ থেকেও পাকিস্তানের দূতাবাস গুটিয়ে নিতে বলা হোক।