রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৩

আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ

আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ-গাজীপুরের নির্বাচনের জন্য। জোর করে জয় ছিনিয়ে নেয়ার যে আশঙ্কা ছিল সেদিকে না যাবার জন্য। মাত্র কয়েকদিন আগে চার বিভাগীয় সিটি নির্বাচনের জন্যও আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ।
আগের চার সিটি নির্বাচন এবং সর্বশেষ গাজীপুর নির্বাচনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না করার পক্ষে আওয়ামী লীগের দাবি আরো জোরালো হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ অবশ্যই দাবি করতে পারে এবং করবে তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তারপরও এ দাবির বিরুদ্ধে বড় একটি যুক্তি অখন্ডনীয় থেকে যাবে বিরোধী পক্ষের। তাহল-এটি স্থানীয় নির্বাচন, ক্ষমতার পালাবদলের জাতীয় নির্বাচন নয়।

গত সাড়ে চার বছর শাসনামলে অনেক ব্যর্থতার মাঝেও আওয়ামী লীগের ঘোর বিরোধী এবং দুশমনরাও মনে মনে তাদেরকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারবেনা সর্বশেষ পাঁচটি সিটি নির্বাচনের জন্য।

যে বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ন এ নির্বাচনের আয়োজন করে থাকুক এবং তিক্ত এ পরাজয় হজম করে থাকুকনা কেন কাজটি ধন্যবাদ পাবার উপযুক্ত এবং এটি তাদের সাড়ে চার বছরের ব্যর্থতার তালিকার বিপরীতে সফলতার তালিকায় বড় একটি তারকা হিসেবে যুক্ত হয়েছে বলা যায়।

তাই আওয়ামী লীগের প্রতি আমাদের আম জনতার পক্ষ থেকে অনুরোধ, আপনারা আগামীতে এমন একটি জাতীয় নির্বাচনের আয়োজনের ব্যবস্থা করুন যেখানে সব বিরোধী দল নিশ্চিন্ত মনে অংশ নিতে পারে এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ পালাবদল সম্ভব হয়। সে আয়োজনের মধ্য দিয়ে যদি সিটি নির্বাচনের মত আপনাদের ভরাডুবি হয় তবু তা আপনাদের পক্ষে যাবে। কারণ সাড়ে চার বছরে আপনাদের মাথায় যে পাপের বোঝা চেপেছে তাতে এ ধরনের একটি আয়োজনের মাধ্যমে আপনাদের পাপের বোঝা অনেকটা কমতে পারে। জনগন আপনাদের মনে রাখতে পারে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের ফলে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিস্থিতিকে আপনারা বর্তমানে যে অবস্থায় নিয়ে এসেছেন তাতে তা আর কোন উপায়েই ভবিষ্যতের জন্য শান্তিপূর্ণ থাকবে বলে মনে হয়না। রাজনীতি নিয়ে কম বেশি মাথা ঘামায় এমন সবারই আশঙ্কা ক্ষমতার পালাবদল সংঘাতময় অবস্থানে চলে গেছে। সরকারের জন্য এক্সিট পয়েন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চায়ের টেবিলে, আডডায় অনেকে অনেক কথা বলে--অনেক কিছু করার ক্ষমতা এখনো সরকারের হাতে রয়ে গেছে কারণ সংসদে তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা ইচ্ছা করলে যেকোন আইন পাশ করে এখনো যা খুসী তাই করতে পারে। সরকারের মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারে ইচ্ছামত। সরকার সহজে ক্ষমতা নাও ছাড়তে পারে। সিটি নির্বাচনের যে ফল তাতে সরকার আদৌ নির্বাচনের দিকে যাবে বলে মনে হয়না। সরকার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে যাতে তাদের অনুগত কেউ ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে যাতে অন্তত বিএনপির হাতে ক্ষমতা না যায়। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এমন একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ করবে এ বিশ্বাস কেউ করতে চায়না। এরকম অনেক কথাই বলাবলি হচ্ছে। এসব আশঙ্কা আরো ঘনীভূত হয়েছে সংসদে দাড়িয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন-তত্ত্বাবধায়ক চাইলে নির্বাচনই হবেনা। এবার ওয়ান ইলেভেনের মত ঘটনা ঘটলে কেয়ামত পর্যন্ত তাদের সরানো যাবেনা।
আমরা মনে করি পরিস্থিতিকে এ পর্যায়ে নিয়ে আসার দায় দায়িত্ব সরকারের। কাজেই আগামীতে ক্ষমতা হস্তান্তর যদি রক্তাক্ত হয় এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যদি কোন বাঁধা সৃষ্টি হয়, বিকল্প কোন ব্যবস্থা/দু:শাসন যদি জাতির ঘাড়ে নতুন করে আরোপিত হয় তবে তার দায়দায়িত্ব বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে। কাজেই এহেন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যদি সরকারের মাঝে শুভবুদ্ধির উদয় হয় এবং সকলের কাছে অংশগ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আয়োজন করে তাহলে তাতে তাদের অনেক পাপক্ষয় হবে। কারণ আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, নিশ্চয়ই অধিক পূণ্য পাপকে মোচন করে দেয়। যারা স্মরন রাখে এটি তাদের জন্য এক মহাস্মারক।
তাই আমরা মনে করি-আওয়ামী লীগের সামনে শান্তিপূর্ণ এক্সিট পয়েন্ট এবং দেশকে সংঘাত, অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষার একটিই উপায় খোলা আছে-তাহল সব বিরোধী দলের কাছে অংশগ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমরা আর কোন রক্তক্ষয় চাইনা। আল্লাহ আওয়ামী লীগের মাঝে শুভবুদ্ধি উদয়ের তাওফিক দান করুন।


শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

হা হা হা পায় যে হাসি

মিসরের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আদলি মনসুরকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ। আদলি মনসুর যাতে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেন সেই কামনা করেন সৌদি বাদশাহ।

মিসরীয় প্রেসিডেন্টের মতাচ্যুতিকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। সিরিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিবৃতিতে আসাদ বলেন, ‘মিসরীয় ...জনগণ তাদের নেতার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করেছে তাতে প্রমাণিত হয়েছে ‘রাজনৈতিক ইসলামের’ সময় শেষ হয়ে গেছে।’

মিসরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘পরিবর্তন’ উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই পরিবর্তনের জন্য মিসরীয় সেনাবাহিনীর প্রশংসাও করে দেশটি। আরব আমিরাত সরকারের প থেকে এই বক্তব্য দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহায়ান।